Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দখলদারি নিয়ে বারাসতে বিজেপির আদি ও নব্যের সংঘর্ষ, রক্তাক্ত জেলা সভাপতি

পালাবদলের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে

দখলদারি নিয়ে বারাসতে বিজেপির আদি  ও নব্যের সংঘর্ষ, রক্তাক্ত জেলা সভাপতি
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পালাবদলের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে। নতুন সরকারের বয়স এখনও একমাসও পূর্ণ হয়নি। এরমধ্যেই ‘দখলদারি’ নিয়ে বিজেপির আদি ও নব্যদের মধ্যে রেষারেষি তুঙ্গে। বুধবার রাতে বারাসতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায়। তা থেকে রেহাই পাননি বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দারও। নব্য বিজেপি কর্মীদের হাতে তিনিও রক্তাক্ত হয়েছেন। তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে দু’পক্ষেরই কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

বারাসত পুলিস জেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় দু’পক্ষের মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বারাসত বিধানসভায় বিজেপি জেতার পর তৃণমূলের অনেকেই রাতারাতি বিজেপি হয়ে যান। তাঁরা ‘তৎকাল বিজেপি’ হিসাবে পরিচিত। এরপর থেকেই নব্যরা, আদি কর্মীদের ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে বলে সূত্রের দাবি। এনিয়ে দলের অন্দরে ক্রমে টানাপোড়েন বাড়ে। শংকর চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় বলে জানা যায়। দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যেও চাপা রেষারেষি ছিল। প্রচারের সময় তা প্রকাশ্যে না এলেও ভোট মিটতেই তা আরও তীব্র হয়। এরপর বিধায়ককে সামনে রেখে নব্য বিজেপি কর্মীরা নিজেদের ‘পুরানো কর্মী’ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার বারাসতের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মীকে বাড়িতে ফেরান। অভিযোগ, এই ঘটনায় বিধায়কের অনুগামী নব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে থেকেই আপত্তি ওঠে। বুধবার গভীর রাতে হৃদয়পুর এলাকায় দখলদারি নিয়ে আদি ও নব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। লাঠিসোটা, দাঁ, কুড়ুল নিয়ে রক্তারক্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এতে দীপক দাস নামে এক বিজেপি কর্মী গুরুতরভাবে জখম হন। তাঁকে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ফেরানোর দায়িত্বে রয়েছেন রাজীব পোদ্দার। এই খবর জানার পর ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা রাজীববাবুর বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বাড়িতে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মাথা, বুক ও পেটে গুরুতর চোট পান রাজীব পোদ্দার। প্রথমে তাঁকে বারাসত মেডিকেল কলেজে ভরতি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তর করা হয়।
এনিয়ে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস মিত্র বলেন, ৪ মে’র পর অনেকেই তৎকাল বিজেপি হয়েছেন। তারাই জেলা সভাপতিকে মারধর করেছে। যে মস্তানরা এই কাজ করেছে, তারা ছাড় পাবে না। অন্যদিকে, বারাসতের বিধায়ক ঘনিষ্ঠ নেতা রাজা সাহানি বলেন, বাড়ি ফেরার পথে দলের এক সক্রিয় কর্মীর উপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। আক্রান্ত কর্মীকে সুস্থ করাই এখন আমাদের প্রধান বিষয়। 

সম্পর্কিত সংবাদ