Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির জন বারলাও এবার তৃণমূলে

বিজেপির জন বারলাও এবার তৃণমূলে
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও জলপাইগুড়ি: গত ২৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভায় হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা। সেইসময় থেকেই বারলাকে ঘিরে তৃণমূলে যোগদানের যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার পরিসমাপ্তি হল বৃহস্পতিবার। এদিন তৃণমূল ভবনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে মমতার দলে শামিল হন বারলা। তাঁর হাতে জোড়াফুলের পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানান তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এমনিতেই ডুয়ার্সের চা বলয়ে তৃণমূল এখন অনেকটাই শক্তিশালী। তার উপর জন বারলা রাজ্যের শাসক দলে যোগ দিতেই চা বাগানে সংগঠন ধরে রাখা নিয়েই ঘোর চিন্তায় গেরুয়া শিবির। সুব্রত বক্সি বলেছেন, দলের স্বার্থে জন বারলা রাজ্য কমিটি এবং চা-বাগানের সংগঠনে কাজ করবেন। আর অরূপ বিশ্বাসের কথায়, জন বারলার যোগদানে বিজেপির আরও একটা উইকেট পড়ল। ভারতীয় টি-ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন নামে বিজেপির যে চা শ্রমিক সংগঠন রয়েছে, বারলার হাতেই কার্যত তা তৈরি। একসময় ওই সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে পদ্ম পার্টির সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদের দূরত্ব তৈরি হতেই দুর্বল হতে শুরু করে বিজেপির ওই চা শ্রমিক সংগঠন। বারলার অনুগামীরা সংগঠনের অন্দরে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। বেহাল সাংগঠনিক পরিস্থিতির কারণে গত প্রায় দেড় বছরে ডুয়ার্সের বহু চা বাগানে ঢুকতেই পারেননি বিজেপি নেতারা। তার প্রভাব পড়েছে গেরুয়া শিবিরের ভোটবাক্সে। ২০২৪ সালের লোকসভা কিংবা মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচন, সর্বত্রই ভোট কমেছে বিজেপির। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা মিলিয়ে চা বাগানে ৪৮৩টি বুথ রয়েছে। গত লোকসভা ভোটের নিরিখে ২৪৪টি বুথে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচনে চা বাগানের একশোটি বুথের মধ্যে ৮১টিতেই এগিয়ে জোড়াফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে বারলার মতো হেভিওয়েট নেতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ডুয়ার্সে যে যথেষ্টই বেগ পেতে হবে তা মানছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তাই বারলাকে দলে ধরে রাখতে চেষ্টার কসুর করেননি গেরুয়া শিবিরের নেতারা। কয়েকদিন আগে বারলার স্ত্রীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে প্রাক্তন মন্ত্রীর বানারহাটের লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের বাড়িতে হাজির হন বিজেপির দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা থেকে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তারপরও বারলাকে ধরে রাখতে না পারায় হতাশ বিজেপির একাংশ। আর এদিন তৃণমূলে যোগদানের পর সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতাদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বারলা। তাঁর বক্তব্য, আমি হাসপাতাল বানাতে চেয়েছিলাম, সেটা আটকে দিয়েছেন বিজেপির এক তাবড় নেতা। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য কিছুই করছে না বিজেপি। বাগান বন্ধ নিয়ে কেন্দ্র উদাসীন। বাংলায় ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকানো হয়েছে। তার উপর আদিবাসী সমাজে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বিজেপি। যদিও জন বারলা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ফলে বিজেপির কোনও ক্ষতি হবে না বলেই দাবি করেছেন গেরুয়া শিবিরের আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা।  যোগদান। তৃণমূল ভবনে জন বারলার সঙ্গে উপস্থিত  সুব্রত বক্সি ও অরূপ বিশ্বাস।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ