Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা: ‘কার্যকর্তা’ মহলে চাপা অসন্তোষ, গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার পদ্মপার্টি

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হুগলিতে প্রার্থী নিয়ে কোন্দল শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। এমনিতেই নানা সমস্যায় জেরবার বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা।

বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা: ‘কার্যকর্তা’ মহলে চাপা অসন্তোষ, গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার পদ্মপার্টি
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হুগলিতে প্রার্থী নিয়ে কোন্দল শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। এমনিতেই নানা সমস্যায় জেরবার বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা। তারমধ্যে প্রার্থী নিয়ে কোন্দল সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কোথাও দলীয় স্তরে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, কোথাও প্রার্থী হওয়া নিয়ে গোষ্ঠীকোন্দল তুঙ্গে। ফলে ভোটের প্রস্তুতি পর্বেই ডামাডোল শুরু হয়েছে দলে। গোটা ঘটনায় হতাশ নীচুতলার ‘কার্যকর্তা’রা। প্রায় প্রতিদিনই তাঁরা স্থানীয় নেতাদের কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেক জায়গাতেই হতাশা থেকে দলীয় কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন কর্মীরা। বিষয়টি নজরে আসতেই জেলার নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। 

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক দাপুটে নেতা বলেন, এভাবে চললে ভোটের সময় কাজ করার লোক মিলবে না। তাতে দলের হয়তো প্রার্থী থাকবেন, কিন্তু ভোট করানোর লোক পাওয়া যাবে না। নীচুতলার ‘কার্যকর্তা’দের নানা কারণেই অসন্তোষ রয়েছে। তার উপর প্রার্থী নিয়ে জটিলতা, দ্বন্দ্ব সেই অসন্তোষকে হতাশায় পরিণত করেছে।
 যদিও বিজেপির অন্যতম নেতা সুরেশ সাউ বলেন, বিজেপিতে সমস্ত কাজ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়। সেক্ষেত্রে মত এবং পালটা মত থাকতেই পারে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রশ্নে কর্মীরা সর্বদা তৎপর। প্রার্থী বাছাই নিয়ে হুমকি বা গোষ্ঠীকোন্দলের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
তাহলে সমস্যা কোথায়? দলের অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন বিধানসভা আসনের প্রার্থী ঠিক করতে বিজেপির অন্দরে ভোটাভুটি হয়েছিল। গোপন ব্যালটে সেই ভোটের আগেই ভোটদাতাদের একাংশকে টিকিট প্রত্যাশীদের কেউ কেউ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযাগ। মূলত, ওই প্রত্যাশীদের ভোট দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। যা নিয়ে ভোটদাতাদের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়। পদ্মপার্টির মতো শৃঙ্খলিত দলে প্রার্থীপদের মনোনয়ন পেতে হুমকির সংস্কৃতি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় মণ্ডল স্তরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যা বিজেপির অন্দরে ডামাডোল তৈরি করেছে। পাশাপাশি, দলের এক নেত্রীকে নিয়ে গত বিধানসভা নির্বাচন থেকে কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সুবাদে স্থানীয় স্তরে ছড়ি ঘোরানো ওই নেত্রী এবারও নির্বাচনের আগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাতে পদ্মপার্টির হুগলি সাংগঠনিক জেলার অন্দরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাতেও আখেরে দলের ক্ষতি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সব মিলিয়ে প্রার্থীপদ নিয়ে তৎপরতা দলের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র করে তুলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ