Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির ছকেই নাম বাদ: মমতা, ‘তুঘলকি কমিশনের টার্গেট মহিলা-সংখ্যালঘু ভোটাররা’

এসআইআর পর্বে নথি নিয়ে লাগাতার টালবাহানা। এমনকি, শুনানি শেষের দু’দিন পর বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারি আবাস প্রকল্পের শংসাপত্র স্রেফ নাকচ করে দেওয়া।

বিজেপির ছকেই নাম বাদ: মমতা, ‘তুঘলকি কমিশনের টার্গেট মহিলা-সংখ্যালঘু ভোটাররা’
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তুঘলকি ১: এসআইআর পর্বে নথি নিয়ে লাগাতার টালবাহানা। এমনকি, শুনানি শেষের দু’দিন পর বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারি আবাস প্রকল্পের শংসাপত্র স্রেফ নাকচ করে দেওয়া। তুঘলকি ২: দেড় কোটির বেশি নাগরিককে ‘এআই’য়ের ভিত্তিতে সন্দেহজনক ঘোষণা করে শুনানিতে ডাকা। তুঘলকি ৩: জীবিত বহু ভোটারকে মৃত বলে দাগিয়ে নাম বাদ দেওয়া। এর ফল কী? লক্ষ লক্ষ নাম ইতিমধ্যেই বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। আরও বহু লক্ষ ভোটার রয়েছেন আশঙ্কায়। নির্বাচন কমিশনের এহেন তুঘলকির বিরুদ্ধেই মঙ্গলবার ফের গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং এই গোটা ‘প্রক্রিয়া’র নেপথ্যচারী হিসাবে দাঁড় করালেন বিজেপিকে। বললেন, বিজেপির ছকেই নাম বাদ দেওয়ার খেলায় নেমেছে কমিশন। বিক্রি হয়ে গিয়েছে ওদের কাছে। টার্গেট করা হচ্ছে মহিলা, সংখ্যালঘু ও তফসিলি ভোটারদের। কারণ, সমাজের এই প্রত্যেকটি শ্রেণিই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা থেকে এঁদের নাম বাদ দিয়ে জয়ের দিবাস্বপ্ন দেখছে বিজেপি।

Advertisement

চড়া সুরেই এদিন কমিশন এবং বিজেপিকে একাসনে বসিয়ে তোপ দেগেছেন মমতা। নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ‘টর্চার কমিশন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতেই বিজেপির হয়ে জ্ঞানেশ কুমারের ‘তুঘলকি-হিটলারি-টর্চার’ কমিশন কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, ‘টর্চার কমিশন। আমি ইলেকশন কমিশন বলতে রাজি নই এবং আমি ওঁর নামও নিতে চাই না। ওঁদের কাছে আমার প্রশ্ন—ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে কে? জনগণ। কোনো তুঘলকি কমিশন ইচ্ছামতো একটি পলিটিক্যাল পার্টির (বিজেপির) মেম্বার হয়ে ভোটের আগেই কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে? ঠিক করতে পারে, কে ক্ষমতায় আসবে?’ 
প্রথম পর্যায়ে এসআইআর হয়েছে বিহারে। সেখানে যে সব নথি গ্রহণযোগ্য ছিল, সেগুলি কেন এরাজ্যে বাদ দেওয়া হবে? এই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করেছেন, বাংলাকে কমিশন টার্গেট করছে। কিন্তু কোথায় তৈরি হচ্ছে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট? তাঁর কথায়, বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। তার জেরেই প্রথম দফায় বাংলার ৫৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি, এদিন দিল্লি থেকে নিযুক্ত কমিশনের আর এক কর্তাকে টার্গেট করে মমতার তোপ, ‘এতদিন বাংলার খেয়ে, বাংলার পরে আজ বাংলার মানুষেরই নাম বাদ দিচ্ছে! কলকাতার টি বোর্ডের অফিসে বসে এই আধিকারিক ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ঘুঁটি সাজাচ্ছে।’ এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল শুনানির শেষ দিন। অথচ সেদিন শুনানির জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালের লগ-ইন ব্লক করে দেওয়া হয়েছে দুপুর ৩টে নাগাদ। এটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। এভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের তথ্য তুলতে না দিয়ে তাঁদের নাম বাদের চক্রান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে বুলডোজ করা হচ্ছে।’ অগ্নিকন্যার চ্যালেঞ্জ, ‘বিজেপি-কমিশনের এই যৌথ চক্রান্তও বাংলাকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলায় সরকার কমিশনকে সহযোগিতা করছে বলেই এসআইআর সম্ভব হচ্ছে। আমরা চাই, এই কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ হোক। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে ভোটও করাতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ