Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশোকনগরে স্বাস্থ্যশিবির ঘিরে প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীবিবাদ

অশোকনগরে স্বাস্থ্যশিবিরে বিজেপির গোষ্ঠীবিবাদ প্রকাশ্যে এল। নেত্রীর গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ। বিস্তারিত পড়ুন।

অশোকনগরে স্বাস্থ্যশিবির ঘিরে  প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীবিবাদ
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: জোড়া ঘটনায় বিপাকে বিজেপি। অশোকনগরে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল! হাসনাবাদে বিজেপি নেত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায় গেল খোদ বিজেপি নেতৃত্ব। 

Advertisement

রবিবার অশোকনগর ৪ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত চিকিৎসা শিবিরকে কেন্দ্র করে মণ্ডলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন দলের একাংশ। অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়ে কর্মসূচি হয়েছে। এমনকি সেখানে তৃণমূল কর্মীদের নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মণ্ডল সভানেত্রী রিংকি সুর। অশোকনগরের ভৈরবতলা কমিউনিটি হলে স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মণ্ডল সভানেত্রী রিংকি সুর। সেখানে দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। অশোকনগর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিজেপির একাংশের দাবি, কর্মসূচি ঘিরে চারদিকে দলের পতাকা লাগানোর কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন একদা তৃণমূলের কর্মীরা। তাদের আরও ক্ষোভ, এত বড়ো কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সহ একাধিক পদাধিকারী ও কর্মীর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির কোন্দল ফের প্রকাশ্যে এসেছে। মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক রতন বিশ্বাসের অভিযোগ, যাদের হাতে বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত ও ঘর ছাড়া হয়েছেন, আজ তাঁদের বিজেপির কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উড়িয়ে রিংকির দাবি, তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ে বিজেপিকে কর্মসূচি করতে হবে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মণ্ডলের অধিকাংশ কর্মী আমার সঙ্গে রয়েছেন।
এদিকে, বিজেপি নেত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন খোদ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ওই নেত্রী আগে তৃণমূল শিবিরে ছিলেন। একই সঙ্গে কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ঘটনাটি  হাসনাবাদের। সোমবার পুরানো একটি ঘটনায় ওই নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপির এক নেতা। হাসনাবাদ থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। 
বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের দাবি, টাকি পুরসভার টাউন তৃণমূলের প্রেসিডেন্ট তথা টাকি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার চিন্ময় মণ্ডল, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রদ্যুৎ দাস, আরিজুল গাজি ও পুরানো তৃণমূল নেত্রী তথা বর্তমান বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে হাসনাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। এদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এমনটাই দাবি তুলে হাসনাবাদ থানায় বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ডেপুটেশন জমা দেয় তারা।
এই বিষয়ে অভিযোগকারী বিজেপি নেতা পরিতোষ হালদার বলেন, ২০১৫ সালে আমি টাকি পুরসভায় ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম। তখন আমাকে মারধর ও খুনের চেষ্টা করেছিল আরিজুল গাজি, প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা-নেত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আজ কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দিলাম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ