নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া, সংবাদদাতা, বেলদা ও ডেবরা: গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। আর তাতে কোনো লুকোছাপা নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর তাই ভোট যত এগিয়ে আসছে, বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ ততই বাড়ছে। সেই প্রমাণই সোমবার পেয়েছে পাঁশকুড়া থেকে ডেবরা। বিজেপি বিরোধিতাকে সপ্তমে নিয়ে গিয়ে এদিন তাঁর তোপ, ‘হারবে বুঝে গিয়েছে ওরা। তাই বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে লাগাতার চক্রান্ত করছে।’
দুই মেদিনীপুরে তিন সভা। আর প্রতি পদক্ষেপে রণহুংকার। মমতার সাফ কথা, ‘নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে চক্রান্ত করা হচ্ছে। ভ্যানিশ কুমারকে ব্যবহার করছে বিজেপি। আমার থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এবার ভোটে মানুষ ওদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেবে। এরা সমাজকে ভাগ করছে। প্রশাসনে বিভাজন তৈরি করছে। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে।’ বাংলার সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আবেদন, ‘কোনোরকম কুৎসা, অপপ্রচারে ভুলবেন না। কারণ, ওরা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের দেওয়া কোনো পরিষেবা পাবেন না। উলটে বুলডোজার দিয়ে সব গুঁড়িয়ে দেবে।’
সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় বিধানসভার বেলদায় নির্বাচনি সভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দলের প্রার্থী প্রতিমা মাইতির সমর্থনে। আর সেখানে তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টকে দেখতে না পেয়েই জ্বলে ওঠেন ক্ষুব্ধ মমতা। সাফ বুঝিয়ে দেন, দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে একজোট হয়ে চলতে হবে। কারণ, এই মুহূর্তে লড়াই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। বাংলার নামে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে। এই প্রসঙ্গেই ‘চার্জশিট’ প্রসঙ্গ টানেন মমতা। বলেন, ‘বিজেপি সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজেরা লুটেপুটে খাচ্ছে। এবার জনগণ ওদের চার্জশিট দেবে। ওরা রাজ্যের পাওনা দু’লক্ষ কোটি টাকা দেয়নি। এই বঞ্চনা আমরা সহ্য করব না।’
পাঁশকুড়ার জয়কৃষ্ণপুরে দিনের দ্বিতীয় সভায় এই একই আক্রমণ বজায় রেখেছিলেন নেত্রী। যে দল মন্দির রাজনীতি করে ক্ষমতায় এসেছে, সেই গেরুয়া ব্রিগেডকে মমতার নিশানা, ‘বিজেপি কাশীতে অনেক মন্দির ভেঙে দিয়েছে। দিল্লিতে বাঙালিদের মারতে গিয়ে কালীমন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীঘায় জগন্নাথধাম তৈরির সময় আমার বিরুদ্ধে কত কথাই না বলেছে! আজ তাদের থেকে ধর্ম শিখতে হবে? আমি রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দর ধর্মকে বিশ্বাস করি। বিজেপির ধর্মের রাজনীতিকে নয়।’ নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দলকে ‘বাংলা বিরোধী’ বলে দেগে মমতার তোপ, ‘পরিযায়ী শ্রমিকরা আসতে চাইছে। অথচ, তাদের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি, বাস রিজার্ভ করলে উত্তরপ্রদেশে আটকে দেওয়া হচ্ছে। এমনই ষড়যন্ত্রকারী দল এই বিজেপি। তাই আসন্ন ভোট বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই। গণতন্ত্র বাঁচানোর যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে কোনো ভেদাভেদ নয়। একযোগে লড়াই করতে হবে। যারা আপনাদের এসআইআর লাইনে দাঁড় করিয়ে অসম্মান করেছে, ভোটার তালিকা থেকে আপনার কাছের মানুষের নাম কেটে দিয়েছে... তাদের উপযুক্ত জবাব দিতেই হবে।’
ডেবরার বালিচক ভজহরি ইনস্টিটিউশনের মাঠে তৃতীয় সভাতেও ছিল তাঁর এক সুর। প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে দাঁড় করিয়ে মমতার সতর্কবার্তা, ‘বহিরাগত ঢুকিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে বিজেপি। আপনাদের ভিটেমাটি ছাড়া করবে। যাঁদের নাম কেটেছে, দ্রুত অনলাইনে আবেদন করুন। সেই সব ট্রাইবুনালে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের লোকজন ফাইল করবে। আইনজীবী আমরা দেব। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। লড়াই আমরা চালিয়ে যাব। ওদের সব চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।’