ভোপাল: জমে গেল মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচন। ১৮ জুন রাজ্যের তিনটি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। বিধানসভায় শক্তির বিচারে বিজেপির দু’টি এবং কংগ্রেসের একটি আসন পাওয়ার কথা। তবে সোমবার আচমকাই তৃতীয় আসনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেছেন মধ্যপ্রদেশ ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান মহেশ কেবত। আর তার জেরে কংগ্রেসে ক্রস-ভোটিং বা বিধায়ক ভাঙানোর জল্পনা চরমে। ঝাড়খণ্ডে আবার রাজ্যসভা ভোটের জন্য নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেশ করেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স শাখার ডিরেক্টর পরিমল নাথওয়ানি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে তিনি ঝাড়খণ্ড থেকে নির্দল প্রার্থী ছিলেন। জেতার মতো বিধায়ক সংখ্যা না থাকায় মুকেশ আম্বানি ঘনিষ্ট পরিমলকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে বিজেপি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী পরিমল বলেন, ‘আগেও নির্দল প্রার্থী হিসাবে আমি জয়ী হয়েছিলাম। সেবার দলমত নির্বিশেষে সবাই আমাকে সমর্থন করেছিলেন। এবারও সেই সমর্থন বজায় থাকবে আশা করছি।’
মধ্যপ্রদেশে শনিবারই রাজ্যসভার দুটি আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন বিজেপির তরুণ চুগ এবং রজনীশ আগরওয়াল। তখনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব খোলাখুলি মন্তব্য করেন, ‘তৃতীয় আসনটিও আমরা জিতব। ওটা আর কোথায় যাবে?’ বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছিলেন, ‘তৃতীয় আসনে বিজেপি প্রার্থী দিলে সংখ্যার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কৌশল।’ অনেকেই বলছেন, ক্রস ভোটিংয়ের মাধ্যমে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারেই ইঙ্গিত করেছিলেন এই প্রবীণ বিজেপি নেতা। এদিন মুখ্যমন্ত্র্রী মোহন যাদব, বিজেপির মধ্যপ্রদেশের ইনচার্জ মহেন্দ্র সিং এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি হেমন্ত খাণ্ডারওয়াল, রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিধায়ককে পাশে নিয়ে মনোনয়ন জমা দেন মহেশ। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজন। তবে মহেশের প্রার্থী হওয়া অন্য একটি কারণে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০২২ সালে নিবারি পুরভোটে দলবিরোধী কাজকর্মের অভিযোগে মহেশ সহ ১০ জনকে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিজেপি। তাঁদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে বহিষ্কারের মেয়াদ শেষের আগেই মহেশকে দলে ফেরানো হয়। তাঁকেই এবার প্রেস্টিজ ফাইটের জন্য ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সামাজিক বিভাজনের অঙ্কেই মহেশের উপর বাজি ধরেছে গেরুয়া শিবির। কেবত বা কৈবর্ত সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংকের কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বাছা হয়েছে।