সংবাদদাতা, বনগাঁ: সম্প্রতি বাগদায় অনুষ্ঠিত হল বিজেপির ‘সিএএ ক্যাম্প’। তা নিয়ে রাজ্যেজুড়ে তরজা চলছে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে। এই আবহেই রবিবার ‘বাঙালি ঐক্য মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন সিএএ ক্যাম্প করল গোপালনগরের সনেকপুরে। এদিন স্থানীয় একটি আশ্রমে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন জানাবার জন্য বেশকিছু মানুষ সেখানে আসেন। বাঙালি ঐক্য মঞ্চ জানিয়েছে, সিএএ’তে এদিন ১৬ জন আবেদন করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার ও হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার।
অসীম সরকার বলেন, ‘উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন। তার জন্য হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট দরকার। ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে অনেক মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেখানে আগে মতুয়া কার্ড করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু এখানে ওসব নেই। এখানে আসবেন আর সার্টিফিকেট নেবেন।’
ঠাকুরবাড়ি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের মন্তব্য প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইন বলেন, ‘অসীম সরকারকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষোভেই এসব মন্তব্য করতে পারেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
অন্যদিকে, সিএএ’র বিরোধিতা করে পাল্টা প্রচারে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বাগদার চুয়াটিয়া বাজারে সিএএ’তে অনলাইন আবেদন করার জন্য শিবিরের আয়োজন করেছিল বিজেপি। রবিবার একই জায়গায় সিএএ’তে যাতে সাধারণ মানুষ আবেদন না করে, তা নিয়ে প্রচার শুরু করল তৃণমূল। বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি সচেতনতা শিবির করা হয় সেখানে। বাগদা পশ্চিম ব্লক সহসভাপতি নিউটন বালা বলেন, ‘বিজেপি মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সিএএ নিয়ে তাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করছে। আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝাতেই এই শিবির চালু করেছি। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাঙালি-বিদ্বেষ চলছে।’
বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘ভোট এলেই সিএএ নিয়ে নাটক শুরু করে বিজেপি।’