নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুকে ঝোলানো ব্যাগে দু’মাসের কন্যা সন্তান। হাতে ভোটার তালিকা নিয়ে এ বাড়ি থেকে সে বাড়ি দৌড়চ্ছেন সঞ্জিতা ঘটক। টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি বিজেপির বিএলএ। বিএলও’র ফোন এলেই বেরিয়ে পড়ছেন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। বিজেপির বিএলও কি কম পড়িয়াছে? সঞ্জিতা বলছেন, ‘আমি বরাবরই দলের হয়ে ভোটার লিস্ট মিলিয়ে দেখার কাজ করি। ফলে পাড়ায় সকলে আমাকেই ফোন করেন। তাই এই কাজে এখন আমারই সুবিধা হচ্ছে।’ শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বলে তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সহজেই।
সঞ্জিতা বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার সহ সভানেত্রী। প্রতিদিন আড়াই-তিন ঘণ্টা রাস্তাতেই কাটছে তাঁর। শিশুকন্যা এখন মাতৃদুগ্ধ পান করে। তাই তাকে বাড়িতে রেখে আসতে পারছেন না। প্রায় ন’বছর হল সঞ্জিতা বিজেপি করছেন। বলেন, ‘যখন প্রথম বিজেপিতে আসি, সেসময় আমার উপর অনেক অত্যাচার হয়েছিল। এখন সে ভয় কাটিয়ে উঠেছি। অন্য দলের লোকেরাও আমাকে সম্মান করেন।’ পাড়ার মেয়ে, নিজের বুথ। অন্য দলের লোকেরা তাঁকে তুই বলেই সম্বোধন করেন। বিজেপি নেত্রীর কথায়, ‘যে বাড়িতে যাচ্ছি, তাঁরাই দেখছি আমার প্রতি সহানুভূতিশীল। সেই দেখে অন্য দলের লোকেরা আমাকে বলছেন, তুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি যা।’ কিন্তু মাটি ছেড়ে যাবেন না সঞ্জিতা। কেন? বলছেন, ‘রাজনীতির ময়দানে নেমেছি। একজনও মৃত ভোটারের নাম থাকতে দেব না। গত তিনদিনে ৬০ মৃত ভোটারের নাম পেয়েছি। আমি না থাকলে হয়ত কাজ বাকি থেকে যাবে। তাই থাকছি।’ সঞ্জিতার এই ডেডিকেশন দেখে কি বিজেপির বড় নেতারা যোগাযোগ করেছিলেন? নেত্রী বলছেন, ‘যোগাযোগ করেননি। তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ছবি শেয়ার করেছেন।’ প্রথমে রাজনীতির ময়দানে নামার সময় বাবা-মা বারণ করেছিলেন। সেসব এখন অতীত। এখন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বেরলেও বাড়ির লোক আপত্তি জানান না। পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট সঞ্জিতা দাপুটে বলেই এলাকায় পরিচিত।