Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপির আশ্বাসই সার, টেট দিয়েই চাকরি রক্ষা! সিবিএসই-র বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল আশঙ্কা

কেন্দ্রীয় স্কুল বোর্ড সিবিএসই আয়োজিত সর্বভারতীয় টেট (সিটেট) হওয়ার কথা ছিল ৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার উল্লেখ করে টেট না দেওয়া কর্মরত শিক্ষকদের পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদনের সময় বাড়িয়েছে সিবিএসই।

বিজেপির আশ্বাসই সার, টেট দিয়েই চাকরি রক্ষা! সিবিএসই-র বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল আশঙ্কা
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্কুল বোর্ড সিবিএসই আয়োজিত সর্বভারতীয় টেট (সিটেট) হওয়ার কথা ছিল ৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার উল্লেখ করে টেট না দেওয়া কর্মরত শিক্ষকদের পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদনের সময় বাড়িয়েছে সিবিএসই। ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হচ্ছে না। পরীক্ষার দিন পরে ঘোষণা করা হবে। এর ফলে দেশজুড়ে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ফের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, শাসক দল বিজেপি বা সরকার যা-ই আশ্বাস দিক, আদতে কোনো পদক্ষেপ করা হবে না। টেট দিয়েই চাকরি বাঁচাতে হবে তাঁদের।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট গত বছর ১ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিল, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিযুক্ত সমস্ত শিক্ষককেই টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তাঁদের যদি টেট না দেওয়া থাকে, দু’বছরের মধ্যে সেই পরীক্ষা দিতে হবে তাঁদের। অন্যথায় চাকরি হারাতে হতে পারে। এ রাজ্যে লক্ষাধিক শিক্ষক এই তালিকায় রয়েছেন। তাই আশঙ্কা রয়েছে এখানেও। ভোটের আগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কলকাতায় এসে বার্তা দিয়েছিলেন, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন, এ বিষয়ে ভাবা হবে। পরে অবশ্য তিনি নিজেই নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের  জেরে পদত্যাগে বাধ্য হন। ফলে সেই ক্ষীণ আশাও আর নেই। বিজেপির শিক্ষক সেল বরাবর আশ্বাস দিয়ে এসেছে, কাউকেই টেট দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করে বাঁচাবে শিক্ষকদের। কিন্তু এখনও তা হয়নি। সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই অবশ্য এখনও আশা ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা কেন্দ্র অর্ডিন্যান্স আনবে। এ রাজ্যের জন্য অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছিল এনসিটিই। সেই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের অর্ডারটিই ফের জারি করলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকরা নিষ্কৃতি পাবেন। কারণ, তার আগের সব শিক্ষক টেট উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন।’ অর্ডিন্যান্স আনতে এত দেরি হচ্ছে কেন? বিশেষ করে সিবিএসই-র এই নির্দেশিকার পর সবাই যখন আতঙ্কে? পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘সিটেট প্রতি বছর হয়। সবাই দিতে পারে। এটা কোনো ব্যাপার নয়। আগের শিক্ষামন্ত্রীকে সমস্যাটা অনেকটাই বোঝানো ছিল। তিনি এগিয়েছিলেন। আবার নতুন করে এগতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সময় চেয়েছি এনিয়ে আলোচনার জন্য।’ অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনকেও বৃহস্পতিবার চিঠি লেখা হয়েছে। সেখানে আবেদন করা হয়েছে, বিধানসভায় বিল এনে রাজ্যের শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। বহু পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক নর্মাল সেকশনের নামে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে থাকেন। সেই কারণেই তাঁদের উদ্বেগ। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ স্কুল শিক্ষামন্ত্রীকে তামিলনাড়ুর উদাহরণ দিয়েছে। তাঁকে লেখা চিঠিতে সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেছেন, ‘তামিলনাড়ু টেট না দেওয়া শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ অন্তত তেমন কিছু করুক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ