Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির যুব মোর্চার নেতাদের পদত্যাগের হুঁশিয়ারি, সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মধ্যেই অস্বস্তি

বিজেপির যুব মোর্চার নেতাদের পদত্যাগের হুঁশিয়ারি, সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মধ্যেই অস্বস্তি
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ায় কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিয়েছে বিজেপিকে। কিন্তু, তার পরিণামে কিছুই দেয়নি দল। কৃতিত্ব দেওয়া তো অনেক দূরের কথা, এখন বিজেপির যুব বাহিনীকে কার্যত পাত্তাই দিচ্ছে না দলের জেলা নেতৃত্ব। দলে মিলছে না যোগ্য সম্মানও। তাই এবার কার্যত দলের বিরুদ্ধেই ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে বসলেন ঝালদার বিজেপির যুব মোর্চার নেতারা। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে যুব মোর্চার শতাধিক কর্মীকে নিয়ে পদত্যাগ করবেন। প্রয়োজনে অন্য দলেও যোগদান করতে পারেন। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে। পুরুলিয়াতেও সেই কাজ চলছে। তার মধ্যেই এই হুঁশিয়ারিতে দলীয় নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিজেদের স্বার্থের পরিবর্তে যুব নেতাদের বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টিকে দেখা উচিত। 
Advertisement
বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, বিজেপি সাংগঠনিক দল। দেশ সেবাই আমাদের একমাত্র ব্রত। তাই ব্যক্তিগত মান অভিমানের কোনও জায়গা নেই। যুব মোর্চার যুবকদের এখনও অনেকটা শেখা বাকি। এই বয়সে আকাঙ্ক্ষা একটু বেশি থাকে। এসব আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া হবে। জেলা সভাপতির সংযোজন, আমরা কী পেলাম না পেলাম তার থেকেও বেশি গুরুত্ব তৃণমূল সরকারকে উত্খাত করা।
সোমবার ঝালদার যুব মোর্চার নেতারা নিজেদের বক্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন। সেই ভিডিওতে বক্তব্য রাখতে শোনা যাচ্ছে ঝালদা শহরের যুবমোর্চার সভাপতি প্রবীর মাহাতকে। তাঁর একদিকে রয়েছেন যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সুরজ কর্মকার। আর অন্যদিকে রয়েছেন সংগঠনের শহরের সহ সভাপতি সন্দীপ চন্দ। প্রবীর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসছি। কিন্তু আমাদের কোনও গুরুত্ব নেই। না সাংসদ আমাদের গুরুত্ব দিচ্ছেন, না জেলার নেতারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। অথচ তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন যে ঝালদায় দলকে জেতাতে আমরা কত পরিশ্রম করেছি। আমরা ঝালদা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোটে লিড দিয়েছি। এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, আমরা যুব নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে আমরা একসঙ্গে সবাই পদত্যাগ করব। 
সুরজ, চন্দনদের অভিযোগ, ভোটে জেতার পর থেকে একদিনও ঝালদায় আসেননি সাংসদ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসেননি। ভোটের সময় তিনি গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমরা যেহেতু বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেছি, তাই এখন তার কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসতেই বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। 
ঝালদা শহর বিজেপির সভাপতি বিজয় ভকত বলেন, কী সমস্যা তা খতিয়ে দেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে।
এনিয়ে বিজেপিকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। ঝালদার তৃণমূল সভাপতি চিরঞ্জীব চন্দ্র(শ্যাম)বলেন, এটা একদম বাস্তব ঘটনা। ২০১৯ সালেও সাংসদ শুধুমাত্র ভোট চাইতেই ঝালদায় এসেছিলেন। তারপর একবারও তাঁকে দেখা যায়নি। এবারও তাই। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন করে বিজেপি এই লোকসভা আসনে জিতেছে। সংগঠন বলে কিছু নেই। তাই বিজেপি নেতা কর্মীরাও মনে করছেন যে বিজেপিতে থাকা ঠিক হচ্ছে না। তাঁরা পদত্যাগ করতে চাইছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ