Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির উপপ্রধান ও সদস্যাকে নিয়ে দুই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতিতে অনাস্থা তৃণমূল

বিজেপির উপপ্রধান ও সদস্যাকে নিয়ে দুই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতিতে অনাস্থা তৃণমূল
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলেরই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন বিজেপির উপপ্রধান। সোমবার চণ্ডীপুর ব্লকের বিজেপি পরিচালিত দিবাকরপুর পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা জমা পড়েছে। তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের পাশাপাশি সই করেছেন বিজেপির উপপ্রধান বিমল বেরা। শুধু দিবাকরপুর নয়, একইভাবে বিজেপির দখলে থাকা কুলবাড়ি পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধেও অনাস্থা এনেছে তৃণমূল। টাই হওয়া ওই পঞ্চায়েতে টসের মাধ্যমে বোর্ড দখল করেছিল বিজেপি। কিন্তু, সোমবার বিজেপির এক সদস্যা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অনাস্থাপত্রে দলত্যাগী ওই সদস্যাও সই করেছেন।
Advertisement
২০২৩সালে চণ্ডীপুর ব্লকে মোট ১০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে তিনটি দখল করেছিল বিজেপি। ওই তিনটি পঞ্চায়েত হল, বৃন্দাবনপুর-১, দিবাকরপুর ও কুলবাড়ি। বোর্ড গঠনের পর বছর ঘুরতেই অন্তর্দ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি। পঞ্চায়েত সদস্যা থেকে উপপ্রধান বোর্ড থেকে সরে গিয়েছেন। দিবাকরপুর পঞ্চায়েতে মোট ১৬টি আসন। তারমধ্যে বিজেপি ন’টি এবং তৃণমূল সাতটি আসনে জয়ী হয়েছিল। বোর্ড গঠনের এক বছর বাদে সেখানকার উপপ্রধান বিমল বেরার সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের সংঘাত বেধেছে। যেকারণে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন উপপ্রধান। সোমবার বিডিও অফিসে অনাস্থাপত্র জমা পড়েছে। 
কুলবাড়ি পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৪টি। দু’দল সাতটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। টসের মাধ্যমে বিজেপি প্রধান এবং উপপ্রধান পদ পেয়েছিল। কিন্তু, সেই বোর্ড গঠনের এক বছর বাদে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষ্মী দোলই মিদ্যা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। সোমবার বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্যা সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেন। এরফলে তৃণমূল কংগ্রেস ওই পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হল। লক্ষ্মীদেবীকে সঙ্গে নিয়েই সোমবার চণ্ডীপুর বিডিও অফিসে কুলবাড়ি পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে তৃণমূল।
পঞ্চায়েতের নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড গঠন করার আড়াই বছর পর বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যায়। অর্থাৎ, প্রধান ও উপপ্রধানকে সরাতে হলে বোর্ড গঠনের পর আড়াই বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু, বোর্ড গঠনের এক বছর বাদে স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যায়। সেইমতো চণ্ডীপুর ব্লকে বিজেপি পরিচালিত ওই দুই পঞ্চায়েতে স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে তৃণমূল।
এনিয়ে দিবাকরপুর পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান বিমল বেরা বলেন, সঞ্চালক পদে যাঁরা আছেন তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাঁদের জায়গায় অন্যরা এলে ভালো হবে বলে আমার ধারণা। তাই স্থায়ী সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছি। বিজেপির জেলা নেতা পুলককান্তি গুড়িয়া বলেন, তৃণমূল নেতাদের মতো পঞ্চায়েতে আসা আমাদের কিছু নেতা অল্প সময়ে রোজগারের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু, বাস্তবে সেটা না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন। আশা করব তাঁরা দ্রুত নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন।
তৃণমূল নেতা স্নেহাংশুশেখর পণ্ডিত বলেন, বিজেপির পঞ্চায়েত ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারছে না। তাতে নিজেদের সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। উন্নয়নে শামিল হতে তাঁরা আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমরা স্থায়ী সমিতি দখল করব। পরবর্তীতে বোর্ড দখল করে পঞ্চায়েতে সুষ্ঠু পরিষেবা দেব।
 
সম্পর্কিত সংবাদ