Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলবিরোধী কাজ, তৃণমূল বিধায়কের নামে হাইকমান্ডে নালিশ

বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলবিরোধী কাজ, তৃণমূল বিধায়কের নামে হাইকমান্ডে নালিশ
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক বিধায়কের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠল। এনিয়ে তৃণমূলের হাইকমান্ডের কাছে বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। আর এতেই তৃণমূলের অন্দরে বেশ শোরগোল পড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিধায়ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তির পরিমাণও বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এছাড়া বিধায়ক স্থানীয় নেতৃত্বকে সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, দলীয় বিধায়ক বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গেও সমান তালে যোগাযোগ রেখেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই বিধায়কের বিরুদ্ধে উচ্চ নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। 
Advertisement
জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা নব নির্বাচিত বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, দোষ করলে কেউ ছাড় পাবেন না। সকলকেই মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। দলের বিরুদ্ধে গেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যে পদেই থাক। সামনে আমাদের বড় লড়াই আসছে। সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিচ্ছি। আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে। বিজেপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হাত মেলালে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবেই। 
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বেশ ভালো ফল করেছিল বিজেপি। মেদিনীপুর লোকসভা আসনও গিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের দখলে। এরপর রাজ্যজুড়ে যেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। তার মধ্যে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারাও ছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও ছবিটা একই ছিল। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া রথ থমকে যাওয়ার পর বেশ বেকায়দায় পড়েন পাল্টি খাওয়া নেতারা। তবে বেশ কিছু নেতা দল পরিবর্তন না করলেও পাঁচিলের উপর বসেছিলেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে এই বিধায়ক অন্যতম। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকে দলের পুরনো কৌশল বদলেছে। বর্তমানে দলবিরোধী কোনও কার্যকলাপ আর বরদাস্ত করবে না হাইকমান্ড। তৃণমূলের রাজ্যস্তরীয় এক নেতা বলেন, ওই বিধায়ক দলবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত। দল কোনওভাবেই দুর্নীতি মেনে নেবে না। স্বচ্ছতা ও জনসংযোগের উপর ভিত্তি করেই আগামী নির্বাচনের টিকিট মিলবে। 
এক তৃণমূল নেতা বলেন, জেলার ওই বিধায়কের নামে জমি সংক্রান্ত বেনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বিধায়কের কোনও জনসংযোগও নেই। অর্থাৎ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এরফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বাক্সে তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রয়োজনে দলের অন্দরেই তদন্ত হবে। উচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখছে জেলা নেতৃত্ব। এক বিজেপি নেতার কথায়, তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল চরমে উঠেছে। কিন্তু আমাদের দল এই পরিস্থিতি কাজে লাগাতে পারছে না। তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীকে হারানোর জন্য উঠে পড়ে লাগছে। উপ নির্বাচনের সময়ও এক গোষ্ঠী চেয়েছিল অপর গোষ্ঠীকে হারিয়ে দিতে। তাই অনেকে প্রচারে নামেননি। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, নিজেদের মধ্যে টাকার ভাগ নিয়ে অশান্তি। তাই হয়তো উচ্চ নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। শুধু একজন বিধায়ক নয়, অনেকেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ