নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সদস্য সংগ্রহে সবার শেষে বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা। টার্গেটের অর্ধেকও এই জেলা স্পর্শ করতে পারেনি। পিছনের সারিতে রয়েছে পাশের দুই জেলা হুগলি এবং পশ্চিম বর্ধমানও। তবে কিছুটা ভালো জায়গায় রয়েছে বীরভূম। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলায় সদস্যপদ সংগ্রহের জন্য ৫০ হাজারের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। রবিবার পর্যন্ত তারা ২০ হাজার মতো সদস্য সংগ্রহ করতে পেরেছে। ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টার্গেট পূরণ করতে বলা হয়েছিল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্যই তারা সদস্য সংগ্রহ করতে পারেনি। প্রতিটি বুথে গিয়ে এই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ বুথে তারা পৌঁছতে পারেনি। ভাতার, কেতুগ্রামের মতো ব্লকগুলিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। হাতেগোণা কয়েকটি এলাকায় তারা সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামে। জেলা নেতাদের মধ্যে সেই সক্রিয়তা দেখা যায়নি। বিজেপি এক নেতা বলেন, উত্তরবঙ্গ বাদ দিয়ে কোথাও টার্গেটের কাছে পৌঁছনো যায়নি। এক সময় আসানসোল, আরামবাগের মতো শহরগুলিতে সংগঠনের ভিত মজবুত ছিল। সেখানেও দল ব্যর্থ। বর্ধমান শহরে সংগঠন বরাবরই দুর্বল। এখানে খুব বেশি সদস্য সংগ্রহ করা যাবে বলে নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেনি। কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার পূর্বস্থলী, কালনায় সদস্য সংগ্রহ প্রত্যাশামতোই হয়েছে। কর্মীদের অনেকেই বলছেন, পূর্ব বর্ধমানের দু’টি সাংগঠনিক জেলাতেই পরিকাঠামো বদল করা দরকার। নেতৃত্বর মধ্যে গাছাড়া মনোভাব রয়েছে। তারা কোমর বেঁধে নামার মানসিকতাতে নেই। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, সব এলাকাতেই ভীতির পরিবেশ রয়েছে। বিজেপির সদস্যপদ নিলে আক্রমণ হতে পারে। সেই আশঙ্কাতেও অনেকে ইচ্ছে থাকলেও সদস্যপদ গ্রহণ করেনি। তবে তারা দলকে সমর্থন করেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির অধিকাংশ কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ে। এখনও পর্যন্ত তারা সব বুথে কমিটিও গঠন করতে পারেনি। লোকসভা নির্বাচনে তার খেসারত দিতে হয়েছে। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রটি তারা ধরে রাখতে পারেনি। গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে অনেকে নিস্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েক দিন আগে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের পরাজিত প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বর্ধমানে এসে ভোটে পরাজয়ের জন্য অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের অনেক কর্মীও বলছেন, অন্তর্ঘাত ছাড়া দলের এই পরিণতি হতে পারে না। তাদের জন্যই কোনও কর্মসূচি সফল হচ্ছে না। দলের নির্দেশ থাকার পরও সদস্যপদ সংগ্রহ অভিযানে ময়দানে অনেক নেতাকে দেখা যায়নি। বর্ধমানের পাশাপাশি দলের এক সময়ের শক্তঘাঁটিগুলিতেও প্রত্যাশামত সদস্য সংগ্রহ না হওয়ায় নেতৃত্বর উপর চাপ বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচন খুব বেশি দূরে নয়। তারআগে সংগঠনে বদল না করলে লোকসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা অনেকেই করছেন।



