Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান ফ্লপ

বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান ফ্লপ
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শালবনী: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে হচ্ছে সদস্যতা অভিযান। কিন্তু প্রাক্তন সাংসদ তথা দাপুটে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে মাঠে নামিয়েও সদস্যতা অভিযানে ভিড় জমাতে ব্যর্থ গেরুয়া শিবির। মঙ্গলবারও শালবনী ব্লকের দেবগ্রাম, মধুপুর এলাকায় একই ছবি ফুটে উঠল। স্থানীয় গুটি কয়েক কর্মী নিয়েই হল সদস্যতা অভিযান। এই কর্মসূচিতে সাধারণ গ্রামবাসীদেরও দেখা মেলেনি। এনিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। বিজেপির নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, ঘটা করে সদস্যতা অভিযান হচ্ছে। কিন্তু এতে সংগঠন বাড়ছে না। এরফলে গ্রামীণ এলাকায় কোনও দলীয় কর্মসূচি হলে ভিড় জমাতে কালঘাম ছুটছে। প্রয়োজনে শহর থেকে কর্মীদের নিয়ে যেতে হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপির হেভি ওয়েট নেতাদের এনেও শো ফ্লপ। 
Advertisement
এদিন দিলীপবাবু দেবগ্রাম এলাকায় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার সময় সুকৌশলে বলেন, সদস্য থেকেই তো সংগঠন হয়। এই সদস্যরাই বুথ কমিটি, মণ্ডল কমিটিতে যাবেন। আগে তো প্রাইমারি মেম্বার। অন্য কোনও দলে না মেম্বার হয়, না কোনও নির্বাচন হয়, না কোনও কমিটি হয়। একজন বলে দেবেন কোম্পানির মালিকের মতো, আজ আছে কাল নেই। এই জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন তিনি মালিক, তিনি চালাবেন। ভগবান চালাচ্ছেন তাঁদের পার্টি। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সবকিছু হয়। তিনি আরও বলেন, সদস্যতা অভিযানে কতজন যুক্ত হয়েছেন আমার জানা নেই। প্রদেশের নেতৃত্বরা জানেন। আমাদের করতে বলা হয়েছে, আমরা গ্রামেগঞ্জে ঘুরে সাধারণ মানুষকে মেম্বার করছি। উল্লেখ্য, উপ নির্বাচনে সময় থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় জোরকদমে শুরু হয়েছে বিজেপির সদস্যতা অভিযান। বিজেপির রাজ্যস্তরীয় প্রথম সারির নেতাকর্মীরাও সদস্যতা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু সদস্যতা অভিযানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিন সকালে দিলীপবাবু এককালে মাওবাদীদের আঁতুড়ঘর মধুপুর এলাকায় সদস্যতা অভিযানে যোগ দেন। কিন্তু সেখানে মানুষের উপস্থিতি সেভাবে দেখাই যায়নি। এলাকার সাধারণ মানুষও জানাচ্ছেন, শুধু দেখলাম কয়েকটি গাড়ি গ্রামের ভিতর দিয়ে গেল। কি হল কিছুই বুঝলাম না। এরপর দিলীপবাবুর কনভয় গিয়ে পৌঁছয় দেবগ্রাম এলাকায়। সেখানে জনা দশেক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। দিলীপবাবুর সঙ্গে ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাত, মিডিয়া কনভেনর প্রশান্ত মজুমদার। বেশি লোক না হওয়ায় অল্প সময় কাটিয়েই দিলীপবাবু গড়বেতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। 
এক বিজেপি নেতা বলেন, দলীয় কর্মসূচি হলেও সদস্য সংখ্যা বাড়ছে না। বড় নেতারা সকলকে সদস্য হওয়ার কথা বলেই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু সংগঠন বাড়ানো বা গোষ্ঠী কোন্দল কমাতে কোনও উপদেশ দেওয়া হচ্ছে না। বড় নেতা না এলেও সদস্যতা অভিযানে একদম লোক হচ্ছে না। কর্মীদের সদস্যতা অভিযানে নিয়ে যেতেও কালঘাম ছুটছে। অন্যান্য দলের সদস্যতা অভিযান না থাকলেও সংগঠন অনেক শক্তিশালী। 
এদিন জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, আমাদের কোনও সদস্যতা অভিযান লাগে না। আমাদের সদস্য সাধারণ মানুষ। অন্তত মিসড কল দিয়ে সাধারণ মানুষকে সদস্য করতে হয়নি। মানুষ উন্নয়ন দেখেই আমাদের পাশে থাকছেন। বিজেপি নেতারাই বলুন, মানুষের জন্য কী কাজ করেছেন। যে কোনও পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই মানুষের পাশে রয়েছেন সর্বদা। আগামী দিনেও আমরাই থাকব। 
সম্পর্কিত সংবাদ