Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির দুর্গে ফাটল ধরাতে স্থানীয় কর্মীদের ‘পেপ টক’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

বিজেপির দুর্গে ফাটল ধরাতে স্থানীয় কর্মীদের ‘পেপ টক’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: গত লোকসভা নির্বাচনে রামমন্দিরের ধ্বজা উড়িয়েও ফৈজাবাদে পর্যুদস্ত হয়েছিল বিজেপি। যে কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে রাজম জন্মভূমি অযোধ্যা। তা হলে নদীয়া দক্ষিণের গেরুয়া দুর্গে ফাটল ধরানো কি খুব কঠিন! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অঙ্ক কষতে শুরু করেছে তৃণমূল। গৈরিক আধিপত্য মুছে দিতে নিচুতলার কর্মীদের ‘পেপ টক’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। 
Advertisement
২০২৬ সালে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপাবে শাসক, বিরোধী সহ সবপক্ষই। ক্যালেন্ডার বলছে, মেরেকেটে আর এক বছর বাকি। চতুর্থবার নবান্নের দখল পাওয়া নিয়ে তৃণমূল নিশ্চিত হলেও নদীয়ায় তাদের চ্যালেঞ্জ— জেলার দক্ষিণে শক্তিশালী গৈরিক দুর্গে ঘাসফুল ফোটানো। আপাতদৃষ্টে বিষয়টি অসাধ্য মনে হলেও সেই অসাধ্য সাধন করতে তৎপর তৃণমূল। জেলা নেতৃত্বের দাবি, এতদিন বুথভিত্তিক ভোটের চরিত্র নিয়ে জেলাস্তরে কাটাচেরা চলত। কিন্তু এবার তাদের নদীয়ার বিধানসভাগুলিতে পরিবার ভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে পর্যালোচনা হবে। নির্দিষ্ট দলের ‘স্ট্যাম্প’ নেই এমন পরিবারগুলিই হবে লক্ষ্যবস্তু। এলাকাভিত্তিক কর্মিসভা, নিচুতলার কর্মীদের বাড়িতে রাত কাটানোর মতো একাধিক কাজ করবে জেলা নেতৃত্ব।
যদিও তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশ মনে করছে, বিজেপি নয়, ২০২৬ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল নিজেই। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, একাধিক আসন তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে কেবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে। এবার কি সেইসব বিরোধ সরিয়ে সব পক্ষকে এক ছাতার নীচে আনা যাবে? জেলা নেতৃত্বের একটা বড় অংশের উত্তর— হ্যাঁ। এক্ষেত্রে একমাত্র লক্ষ্য, বিজেপির গড়ে ঘাসফুল ফোটানো। তাই সেইমতোই জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ‘পেপ টক’ দেওয়া হবে দলের আভ্যন্তরীণ সভা-সমিতিগুলিতে। কী সেই ‘পেপ টক’? সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে অযোধ্যায় বিজেপির পরাজয়কেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে নিচুতলার কর্মীদের সামনে। অর্থাৎ তৃণমূল স্তরে বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদী চিন্তাভাবনাকে প্রতিরোধ করা গেলেই ফুটবে ঘাসফুল। শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের কাছেই নয়, একই বিষয় সাধারণ মানুষের কাছেও তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি ‘হিন্দু’ নিয়ে রাজনীতি না করেও দীঘায় জগন্নাথ মন্দির, দুর্গাপূজায় সরকারি অনুদান, গঙ্গাসাগরের মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হয়েও তৃণমূল সরকারের কাজগুলি তুলে ধরাই লক্ষ্য। সংখ্যালঘু ভোট অধিকাংশ জায়গায় ফ্যাক্টর না হলেও, একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টিও প্রচারের মধ্যে রাখা হবে বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষকে এটাই বোঝাব যে, যেখানে অযোধ্যা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে নদীয়া দক্ষিণ কোন ছাড়! অনেক জায়গায় দলের কর্মীরা ভাবছেন, এই লড়াই হয়তো কঠিন। কিন্তু অযোধ্যার বিষয়টিকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে আমরা দলের সংগঠনভিত্তিক সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও বিষয়টিকে নিয়ে খুব বেশি ভাবিত নয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ এবারে শুধু নদীয়া দক্ষিণ কেন, গোটা রাজ্যই বিজেপির পাশে দাঁড়াবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ