নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে যুবকের। প্রতিবাদ করায় স্ত্রী ও শ্বশুরকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাওড়া জেলার (সদর) বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি সঞ্জয় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর স্ত্রী পূজা চক্রবর্তী। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারিণীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবপুরের বলাই মিস্ত্রি লেনের বাসিন্দা সঞ্জয়ের সঙ্গে ২০১৩ সালে ডোমজুড় সলপের বাসিন্দা পূজার বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর সঞ্জয়ের একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন পূজা। প্রতিবাদ করলে জুটত বেধড়ক মারধর। ২০২০ সালে এক মহিলার সঙ্গে সঞ্জয়ের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তিনি। পরবর্তীতে আরও এক মহিলার সঙ্গে সঞ্জয়ের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এই দু’জনের মধ্যে একজনকে নাকি লুকিয়ে বিয়েও করে সে। গত বছর থেকে পূজাকে মিউচুয়াল ডিভোর্সের জন্য চাপ দিচ্ছে সঞ্জয়। নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে স্ত্রীকে ভয়ও দেখাত সে। এরপরেই পূজা ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। পূজাদেবী বলেন, ‘সঞ্জয় বিজেপির পদে থাকার ভয় দেখিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে খুনের হুমকি দিয়েছে। আমার ছেলেকে অপহরণ, বোনকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে।’ অভিযোগকারিণীর বাবা সুকুমার গোস্বামী বলেন, ‘আমার বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে সংকটে রয়েছি।’ ৮ নভেম্বর শিবপুর থানায় পূজা চক্রবর্তী স্বামী সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হাওড়া জেলা বিজেপির (সদর) যুব মোর্চার পদে রয়েছেন সঞ্জয়। তাঁকে বহু দলীয় অনুষ্ঠানে রাজ্য সভাপতি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও দেখা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সুইচড অফ পাওয়া যায়। তাঁর বাড়িতে গিয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও দেখা মেলেনি। এদিকে, তাকে নিয়ে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েছে গেরুয়া পার্টি। বিজেপির হাওড়া সদরের সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিং বলেন, ‘ঘটনাটি কী, তা আমরা এখনও সম্পূর্ণ জানি না। তবে এই ধরনের অভিযোগ থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। দল কখনওই এসব প্রশ্রয় দেয় না।’ এদিকে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসকদল তৃণমূল। তৃণমূলের হাওড়া সদরের যুব সভাপতি কৈলাস মিশ্র বলেন, ‘যুবরা সমাজ সংস্কারের পথ দেখায়। অথচ বিজেপির মতো দলে এই ধরনের পদে আসীন কোনও ব্যক্তি বাড়ির মহিলাদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা করতে জানে না। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ব্যবস্থা নিক।’