Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিল্পের স্বপ্নকে উসকে দিয়ে কৃষক আন্দোলনের ভূমিতে জয় বিজেপির

শিল্প বনাম কৃষি, সেই বিতর্ককে সঙ্গে রেখেই রাজ্য তথা দেশের রাজনীতির চর্চায় এসেছিল সিঙ্গুর। একদা কৃষক আন্দোলন জয়ী হয়েছিল সিঙ্গুরে। বহু বছর পর এবার ঘুরেছে চাহিদার চাকা।

শিল্পের স্বপ্নকে উসকে দিয়ে কৃষক আন্দোলনের ভূমিতে জয় বিজেপির
  • ২১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শিল্প বনাম কৃষি, সেই বিতর্ককে সঙ্গে রেখেই রাজ্য তথা দেশের রাজনীতির চর্চায় এসেছিল সিঙ্গুর। একদা কৃষক আন্দোলন জয়ী হয়েছিল সিঙ্গুরে। বহু বছর পর এবার ঘুরেছে চাহিদার চাকা। আর তাই শিল্পই উঠে এসে প্রথম সারিতে। রাজনৈতিক মহলের বড়ো অংশের দাবি, শিল্পের সম্ভাবনাকে উসকে দিয়েই বাংলার রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিধানসভায় জয় পেয়েছে বিজেপি। তবে শুধু জয় নয়, কার্যত জনসমর্থনের বুলডোজার চালিয়ে জয় পেয়েছে বিজেপি। পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, হুগলি জেলা বা রাজ্যের আর দশটা বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে সিঙ্গুরের তফাত আছে। আর সেই কারণেই সিঙ্গুরের জয়কে বিজেপি নেতৃত্ব শিল্পের প্রতি নাগরিকদের সমর্থনের সিলমোহর হিসাবেই দেখছে।

Advertisement

সিঙ্গুরের দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া বিজেপি নেতা সঞ্জয় পান্ডে বলেন, এবার সিঙ্গুরের জনাদেশ শুধু একটি বিধানসভা নয়, আমাদের হাতে শিল্প গড়ার ছাড়পত্র দিয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই বলছিলাম— বাংলার শিল্প সম্ভাবনা, সিঙ্গুরের শিল্পকে শ্মশানের পথে পাঠিয়েছে তৃণমূল। এবার সিঙ্গুরে বিজেপিকে জিতিয়ে মানুষ শিল্প আনার পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এই জনাদেশ এটাও প্রমাণ করছে যে, তৃণমূলের সিঙ্গুর-রাজনীতি সঠিক ছিল না। সিঙ্গুরের মানুষ এবার ইতিহাসকে ভুল প্রমাণ করে নতুন ইতিহাস গড়ার দিশা দিয়েছে। তৃণমূল নেত্রী তথা হুগলির ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, একটি নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে ইতিহাসকে ভুল প্রমাণ করা যায় না। আমরা সিঙ্গুরে শিল্প গড়ার কাজ করেছি। কৃষিভিত্তিক শিল্প সেখানে হয়েছে। একটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হয়েছে। সেই প্রসঙ্গটি ভাবনার মধ্যে রাখা দরকার। আমরা ফলাফল বিশ্লেষণ করছি। তবে এটুকু বলব, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সিঙ্গুরে কোনো শিল্প গড়ার প্রস্তাব এখনও দেয়নি।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুরে প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছে বিজেপি। এখানে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে পদ্মপার্টির অনুকূলে। যা সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কার্যত সংগঠনহীন অবস্থা, অপরিচিত ভোটপ্রার্থী সহ একাধিক বিষয় বিজেপির বিপক্ষে ছিল। সেখানে তৃণমূলের কাছে ছিল জমাট সংগঠন, দাপুটে বিধায়ক তথা ভোটপ্রার্থী। তারপরেও বিপুল হারের মুখ দেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদা সিঙ্গুর তৃণমূলকে রাজনৈতিক পরিচয় শুধু নয়, ভারতীয় রাজনীতিতে বিপুল উচ্চতা দিয়েছিল। সেই আন্দোলনের মাটিতে তৃণমূলকে ধরাশায়ী হতে হয়েছে। ফলে, ভোট পরবর্তী সময়ে সিঙ্গুর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পৃথক চর্চা শুরু হয়েছে। আর এখানেই রাজনৈতিক মহলের দাবি, সিঙ্গুর তৃণমূলের কাছে পৈতৃক সম্পত্তির মতো হয়ে উঠেছিল। আর তাতে পরিবারতন্ত্রের চাষ করেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কৃষি থেকে শিল্প, কোনো দিকেই যেতে পারেনি সিঙ্গুর। সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এসে সভা করা সহ একাধিক পদ্ধতিতে শিল্পগড়ার স্বপ্নকে বিজেপি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিল। তাতেই বিপুল জয় এসেছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ