নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ঠিক যেন ২০১৮ সালে বিডিও অফিসে পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নের সেই হিংসার ছবি। বিরোধী দলের মনোনয়ন আটকাতে অফিসের গেটে তাগড়াই চেহারার যুবকরা গেট ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মনোনয়ন তুলতে যাওয়া বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সমবায়ী মঞ্চের নেতৃত্বকে ঘিরে ধরে ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি, তারপর মার। সেসব অতিক্রম করে সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন মনোনয়নপত্র তোলার জন্য নির্দিষ্ট রুমে ঢুকতে পারেনি বিরোধী শিবির। যেকারণে কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ১০০ আসনের ডেলিগেট নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০১টি মনোনয়ন জমা পড়ল। শুধুমাত্র হেঁড়িয়া নির্বাচনি ক্ষেত্রে একটি আসনে দু’টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। দু’জনই বিজেপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা করেছেন। সুতরাং কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাংকের পরিচালন কমিটি বিনা ভোটে দখলের পথে বিজেপি। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে মনোনয়ন স্ক্রুটিনি হবে। তারপর বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ওই প্রক্রিয়ার পরই বৈধ প্রার্থীদের হাতে জয়ের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
গত ১০সেপ্টেম্বর কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ২০২৪ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশের মধ্যে প্রথম আধা সেনা দিয়ে ওই সমবায়ে ডেলিগেট নির্বাচন হয়েছিল। বোর্ড দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, ৪মে রাজ্যে পালাবদলের পর ব্যাংকের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ইস্তফা দেন। গত ২৫ জুন বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সিইও হিরোজ মাইতিকে প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। ফের ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়। সেইমতো ১০সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।
মোট ১০০জন ডেলিগেট নির্বাচনের জন্য ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর কাঁথিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সমবায়ী মঞ্চ এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়ে মনোনয়ন তুলতে গিয়েছিল। কিন্তু, অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। পর পর দু’দিন ধাক্কাধাক্কি করে অফিস চত্বর থেকে খেদিয়ে দিয়েছে বিজেপির কর্মীরা। অগত্যা এনিয়ে বিরোধী শিবির থানায় অভিযোগ করে। বিক্ষোভ দেখায়। কিন্তু, কোনো লাভ হয়নি। মনোনয়ন কক্ষে পৌঁছাতেই পারেনি বিরোধী শিবির।
তাই আগামী ১১অক্টোবর কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ভোটের প্রয়োজনীয়তা রইল না। তার আগেই ফয়সালা হয়ে গেল। বিজেপির দখলে চলে গেল ব্যাংক। ওই ব্যাংকের সদস্য তথা ৮০হাজার ৯৯৮ভোটারকে আর কষ্ট করে ভোটদান কক্ষে যেতে হবে না। ব্যাংকের প্রশাসক হিরোজ মাইতি বলেন, ১০০টি আসনে মোট ১০১টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। হেঁড়িয়া নির্বাচনি ক্ষেত্রে একটি আসনে দু’টি মনোনয়ন জমা পড়েছে।
বাম প্রগতিশীল মঞ্চের নেতা হিমাংশু দাস বলেন, দু’দিন ধরে কাঁথিতে ওই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের গেটে গেরুয়া তিলকধারী যুবকদের তাণ্ডব চলল। আমরা মনোনয়ন তুলতে গেলে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি করে। তারপর মেরে বের করে দেয়। পুলিশ নীরব দর্শক ছিল। এর প্রতিবাদে আমরা থানায় ডেপুটেশন দিয়েছি। কন্টাই কার্ড ব্যাংকের মতোই কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাংকেও ভোট না করিয়ে গায়ের জোরে দখল নিল বিজেপি।
বিজেপির জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, বিরোধীরা মনোনয়ন তুলতে পারেনি। ভোটে লড়ার মতো লোকবল নেই। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।