Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফলতায় বিপুল ভোটে জয়ী বিজেপি, জমানত বাজেয়াপ্ত জাহাঙ্গিরের, দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম

ফলতার রং গেরুয়া! দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আরও একটি আসন নিজেদের দখলে নিল বিজেপি। রবিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা হয়।

ফলতায় বিপুল ভোটে জয়ী বিজেপি, জমানত বাজেয়াপ্ত জাহাঙ্গিরের, দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা: ফলতার রং গেরুয়া! দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আরও একটি আসন নিজেদের দখলে নিল বিজেপি। রবিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা হয়। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে। জয়ের ব্যবধান ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোট। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির এই জয় প্রত্যাশিতই ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাই যাবতীয় কৌতূহল কেন্দ্রীভূত হয়েছিল দু’টি বিষয়ে। দ্বিতীয় স্থান পাবে কোন দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঝুলিতে যাবে কত ভোট। দিনের শেষে দেখা গেল, তৃণমূল প্রার্থী শুধু পরাজিতই হননি, তাঁর জমানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাম-আইএসএফ জোট। ১০ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছে কংগ্রেস। তৃণমূল চতুর্থ। বিজেপির ফলতা জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডলে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘ফলতার জনগণ তাঁদের মত জানিয়েছেন! গণতন্ত্র জিতেছে ও ভীতিপ্রদর্শন পরাজিত হয়েছে।’ অমিত শাহ জানান, উন্নয়নের পক্ষে ও ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের জনগণ।

Advertisement

গত ২৯ এপ্রিলের ভোটে ফলতা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গির বাহিনীর বিরুদ্ধে। ইভিএমে টেপ, আতর লাগানো, ভোটারদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মতো গুচ্ছ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ফলতার ওই ভোট বাতিল করে দেয়। ২১মে এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে কমিশন। কমিশনের কড়া নজরদারিতে সেদিন ফলতার মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দেন। ততদিনে রাজ্যে গঠিত হয়েছে বিজেপি পরিচালিত সরকার। ভোটদানের হার দেখে বিশেষজ্ঞরা বুঝে গিয়েছিলেন, ফলতায় বিজেপির বড়ো জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে হলও তাই। রবিবার ইভিএম খুলতেই এগিয়ে যেতে থাকেন পদ্মপ্রার্থী। একটা সময় সিপিএম কিছুটা লড়াই দিলেও রাউন্ড যত এগিয়েছে, বিজেপির ব্যবধান ততই বেড়েছে।
গণনায় দেখা যায়, কোনো রাউন্ডে ৬০০০ তো কোনো রাউন্ডে ৮০০০ ভোট পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। সেই জায়গায় তৃণমূলের জাহাঙ্গিরের প্রাপ্ত ভোট ২০০ থেকে ৩০০-র  মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন ৭৭৮৩ ভোট। তৃণমূলের এমন ফল কল্পনাও করতে পারেননি অনেকে। তবে জাহাঙ্গির যখনই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি এই ভোট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন, তখন থেকে এই আসনে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে চর্চা শুরু হয়। ফলাফলে দেখা গেল, ফলতায় শাসক দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে এসেছে লাল ঝান্ডা। বিশেষত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বাম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভোট পেয়েছেন। এমনকি, চতুর্থ রাউন্ডে তারা বিজেপিকে ছাপিয়েও গিয়েছিল। বিজেপি প্রার্থীর ব্যাখ্যা, ‘হিন্দু এলাকায় সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। সংখ্যালঘু অঞ্চলের ভোট বাম ও অন্যান্যরা পেয়েছে।’ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট। সিপিএমের ঝুলিতে গিয়েছে ৪০ হাজার ৬৪৫টি ভোট। সিপিএম প্রার্থী বলেন, ‘এই ফলাফল আমাদের দায়িত্ববান করে তুলল। আগামী দিনে মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ 
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই ফলাফলের পর কমিশনকেই ফের নিশানা করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘সাড়ে ৩টের মধ্যে গণনা শেষ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ৪ মে এই সময়ে দুই থেকে চার রাউন্ড গণনা হয়েছিল।’ সার্বিক গণনা প্রক্রিয়ার সিসিটিভি ফুটেজের নিরপেক্ষ অডিট দাবি করেন তিনি। এদিকে, বিজেপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হতেই শুরু হয়ে যায় গেরুয়া আবির নিয়ে উদযাপন। শুনশান পড়ে থাকে জাহাঙ্গিরের পার্টি অফিস!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ