নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগেই শহরের রং বদল! গেরুয়া রঙের পোঁচ পড়তে চলেছে শহরের রোড ডিভাইডার থেকে শুরু করে ফুটপাতের রেলিং, মিডিয়ান স্ট্রিপে। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে আধিকারিকদের এ সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভা সূত্রে খবর, কী ধরনের ডিজাইন হবে, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। হালকা গেরুয়া বা ইটের রঙে শহর সাজানোর কথা বলা হয়েছে। তবে গোটা শহরে এই কাজের জন্য যে বিপুল খরচ হবে, তার দায় কে নেবে, কবে ঠিকাদারদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত পুরকর্তারা। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ, আগামী ৫ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে রঙের কাজ শেষ করে ফেলতে হবে।
ইতিমধ্যেই মেয়ো রোড, রেড রোড সংলগ্ন এলাকার ফুটপাতের রেলিং থেকে শুরু করে রাস্তার মধ্যবর্তী গোলাকৃতি আইল্যান্ড ইট-রঙে সেজে উঠেছে। তবে সেই কাজ করেছে রাজ্যের পূর্তদপ্তর। পুরসভা কোথাও এখনও পর্যন্ত রং বদলের কাজ হয়নি। কারণ, বাদ সেধেছে অর্থের জোগান। এই অবস্থায় দুর্গাপুজোর আগে নতুন করে রং করার ফরমান এসেছে। সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে দুই রাস্তার মধ্যবর্তী ডিভাইডার কিংবা ফুটপাতের রেলিং থেকে শুরু করে রাস্তার মাঝ বরাবর তৈরি হওয়া মিডিয়ান স্ট্রিপে বরফি বা ডায়মন্ড কাট ডিজাইন করা হয়েছিল। নীল-সাদা আমলের সেই ডিজাইনও বাতিল হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কমিশনারের পছন্দ, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের ডিজাইন। তাই মিডিয়ান স্ট্রিপে ঢেউয়ের মতো ডিজাইন করা হবে। পূর্তদপ্তর যে ধরনের হালকা গেরুয়া বা ইটের রং ব্যবহার করেছে, সেই রঙেই কাজ হবে। তবে সেক্ষেত্রে গেরুয়ার সঙ্গে সাদা ও হলুদের ‘কম্বিনেশন’ থাকতে পারে বলে জানাচ্ছেন আধিকারিকেরা।
এই খরচ আসবে কোথা থেকে? পুরসভা সূত্রে দাবি, কলকাতার রাস্তাঘাটকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তৈরি হয়েছিল মিডিয়ান স্ট্রিপ। শহরে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার মিডিয়ান স্ট্রিপ রয়েছে। এক কিলোমিটার মিডিয়ান স্ট্রিপে সব মিলিয়ে রঙের খরচ ২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ ১৫০ কিলোমিটার নতুন করে রং-ডিজাইন করতে কমবেশি তিন কোটি টাকা প্রয়োজন। এর বাইরে শহরের ফুটপাত এবং ডিভাইডার মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার রেলিং রয়েছে। সেখানেও রং করতে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা খরচ ধরা থাকে। অর্থাৎ রেলিং ও মিডিয়ান স্ট্রিপ, সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার ধাক্কা। এর মধ্যে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও ধরা আছে। আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, গত কয়েক মাস ধরে পুরসভার কোনো কাজই হচ্ছে না। ঠিকাদারদের পেমেন্ট প্রায় বন্ধ। এই অবস্থায় নতুন করে রং করতে যে বিপুল খরচ, তা কোথা থেকে আসবে, টাকা কবে মিলবে, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।