Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর পথে বিজেপি

শুধু গোর্খাল্যান্ডই নয়, বাংলায় ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে বিজেপি।

ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী  গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর পথে বিজেপি
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: শুধু গোর্খাল্যান্ডই নয়, বাংলায় ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে বিজেপি। সেইমতো দলের উত্তরবঙ্গের সাংসদরা পেতে চলেছেন বিশেষ নির্দেশ। বিজেপির শীর্ষ সূত্রে এমনই খবর মিলেছে। ফলে গোটা বিষয়কে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল। গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও। অমিত শাহের সঙ্গে ওই বৈঠকে নির্দিষ্ট করে গোর্খাল্যান্ডের প্রসঙ্গ ওঠে। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের আর্জি অমিত শাহকে জানান গোর্খা নেতারা। শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা।

Advertisement

 এদিনও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ। এহেন পরিস্থিতিতে ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ রক্ষা করে চলার চেষ্টাকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (জিসিপিএ) এবং কামতাপুর পিপলস পার্টি (কেপিপি)। প্রতিটিই আলাদা রাজ্যের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সমস্ত সংগঠনের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টায় প্রশ্ন উঠছে, বাংলা ভাগের মতো ইস্যুকে কি তাহলে সত্যিই হাতিয়ার করতে মরিয়া হয়েছে গেরুয়া শিবির? প্রসঙ্গত, রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পরে একাধিকবার আলাদা কোচবিহার রাজ্যের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অনন্ত মহারাজ (নগেন্দ্রনাথ রায়)। এমনকি সংসদ ভবন চত্বরে এব্যাপারে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতিও দিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা বিজেপির কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। যদিও এব্যাপারে বিজেপির পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি সাংসদ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করার পিছনে রাজবংশী বা কামতাপুরী সম্প্রদায়ের স্থানীয় মানুষের অবদান কম নয়। তাই দলের সংশ্লিষ্ট সাংসদ বা বিধায়কদের তাঁরা উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই পারেন। তার জবাবও আমাদের দিতে হবে। উন্নয়নের স্বার্থেই কিছু যোগাযোগ থাকা জরুরি। তার মানেই এই নয় যে, বিজেপি বাংলা ভাগ চাইছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এবিষয় নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় পার্টিতেই আলোচনা হয়েছে। সেইমতোই পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে দল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ