Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতাকে মারধরে যুক্ত কর্মীদের ‘দুষ্কৃতী’ বলে কটাক্ষ বিজেপির

নেতাকে মারধরে যুক্ত কর্মীদের ‘দুষ্কৃতী’ বলে কটাক্ষ বিজেপির
  • ৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: প্রথমে পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতির জামার কলার টেনে মার। এরপর গাড়ি ভাঙচুর। সেই সঙ্গে কুরুচিকর ভাষার ব্যবহার। বাদ যায়নি কিছুই। সেই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে বিজেপির জেলা নেতৃত্বের তরফে দুষ্কৃতীদের আক্রমণের তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে বিজেপির কর্মসূচিতে সেই দুষ্কৃতীদেরই দেখা মিলল। দুষ্কৃতীদের অনেককেই হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা গিয়েছে। তাই নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছে। জানা গিয়েছে, দিলীপ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জেলা সভাপতিকে মারধর করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন নেতাদের একাংশ। মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় বেশকিছু প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হয়েছে। গোটা দলটা নেতৃত্ব সঙ্কটে ভুগছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। 

Advertisement

বিজেপির নেতাদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ দীঘার মন্দিরে যাওয়ার পরেই জেলা নেতৃত্ব দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করছে। এদিন বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত কুমার মণ্ডল বলেন, শুক্রবার রাতের অনুষ্ঠানে দুষ্কৃতীরা ছিল কি না, জানা নেই। তবে সেই দিনের ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল যুক্ত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার বিকেলে। দিলীপ ঘোষ দীঘার মন্দিরে যেতেই ক্ষুব্ধ হন নেতা-কর্মীদের একাংশ। রাতেই বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। দিলীপবাবুর ছবিতে জুতোর মালা পর্যন্ত পরান উপস্থিত নেতারা। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সভাপতি পৌছলে খেপে ওঠেন কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁরা প্রকাশ্যে বিজেপির জেলা সভাপতিকে মারধর করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা যেতেই দলীয় নেতৃত্বের তরফে দুষ্কৃতী তত্ত্ব খাড়া করা হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে বিজেপি নেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা কিছু প্রথম সারির দলবদলু নেতা সহ জেলা নেতৃত্ব দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেই কর্মসূচিতে ‘দুষ্কৃতী’ আখ্যা দেওয়া নেতাদেরও দেখা গিয়েছে। সেই দুষ্কৃতীরা আবার ছবিও তুলেছে প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গেও। 
এক বিজেপি নেতা বলেন, জেলা সভাপতিকে মারধরের ঘটনা ভালো চোখে দেখেনি উচ্চ নেতৃত্ব। দল ক্ষমতায় না এসেই মারপিট শুরু হয়েছে। এরফলে নিচুতলার কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে খারাপ বার্তা যাচ্ছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো এখনও ঠিক হয়নি, সেইদিকে কারও মাথাব্যথা নেই। সবদিকেই ধামাচাপা দিয়ে দলটা চলছে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, বিজেপির নেতারা শুধু নাটক করতে জানেন। ওঁরা চায় অশান্তি তৈরি করতে। আমরা অশান্তি করতে দেব না। নিজেদের দলের নেতাদেরই ‘দুষ্কৃতী’ বলছে বিজেপি। এর চেয়ে লজ্জার কীই বা হতে পারে। বিজেপি দলটাই আর থাকবে না। আগামী নির্বাচনে একটাও ভোট পাবে না গেরুয়া বাহিনী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ