সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ভ্রমণপিপাসু বাঙালির কাছে দারিংবাড়ি অতি পরিচিত নাম। ওড়িশার ‘কাশ্মীর’ বলে খ্যাত। আর এই দারিংবাড়ি যে মহকুমার অধীনে সেটি বালিগোড়া। পাহাড়, জঙ্গল ঘেরা প্রায় গোটা মহকুমা এলাকা। পশ্চিম বর্ধমান থেকে দূরত্ব প্রায় সাড়ে ছ’শো কিলোমিটার। সেই বালিগোড়া এখন ঘুম কেড়েছে বাংলার পুলিসের।
Advertisement
বাংলায় বছরে যত পরিমাণ গাঁজা ঢোকে তার সিংহভাগটাই আসছে ওড়িশার এই পাহাড়ি এলাকা থেকে। বেপরোয়াভাবে সেখানে চলছে গাঁজা চাষ। দেদার পাচারও হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। বড় মাপের ‘ক্রেতা’ বাংলা। তারপরেই রয়েছে ছত্রিশগড়, বিহার সহ ওড়িশার অন্যান্য পড়শি রাজ্য। মাদক পাচারের টাকায় রাতারাতি বদলে যাচ্ছে বালিগোড়ার অর্থনৈতিক জীবন। আজ যাঁর কুঁড়ে ঘর, কাল তাঁর চোখধাঁধানো অট্টালিকা। ওড়িশায় এখন শাসন ক্ষমতায় বিজেপি। মানে ডাবল ইঞ্জিন। সেখানে কীভাবে চলছে এই অবৈধ কারবার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। স্বভাবতই বাংলার তৃণমূল দায়ি করেছে ওড়িশা সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে। রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘আসানসোল দুর্গাপুরের বিভিন্ন গাঁজা পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিয়ে পুলিস জানতে পেরেছে, ওড়িশা থেকে মাদক আনা হচ্ছে। বিজেপি শাসিত সরকার তাদের রাজ্যে গাঁজা চাষে লাগাম টানতে পারছে না। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের আইনশৃঙ্খলার এই হাল!’ পাল্টা দিতে ছাড়েনি বিজেপিও। দলের জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন এত জঙ্গি ধরা পড়ছে, তার উত্তর কী আইনমন্ত্রীর কাছে রয়েছে? ওড়িশা নিয়ে যদি এতই সমস্যা তা হলে বিষয়টি সংসদে তুলুন।’
গত বছর ডিসেম্বর মাসে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার পুলিস একটি গাড়ি থেকে ৭৫ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে। ধরা পড়ে ভরতকুমার জয়সওয়াল নামে এক পাচারকারী। বাড়ি মেনগেট এলাকা। পাকড়াও করা হয় তার তিন সহযোগীকেও। তাদের বাড়ি মুর্শিদাবাদের রানিনগরে। তদন্তে উঠে আসে, গাঁজার সরবরাহ করছে বালিগোড়া থানা এলাকার বাসিন্দারা। নির্দিষ্ট নাম পেয়ে ওয়ারেন্ট নিয়ে সেখানে হানাও দেয় পুলিস। গিয়ে তাজ্জব অফিসাররা। বালিগোড়ার ঘরে ঘরে গাঁজার চাষ ও কারবার। অভিযুক্তেরও সন্ধান মেলেনি। ওসি মইনুল হক বলেন, ‘আমাদের টিম বালিগোড়ায় অভিযানে গিয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি।’ এদিকে, রবিবারই কুলটি থানা এলাকায় ১৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এসিপি (কুলটি) জাভেদ হোসেন বলেন, ‘গাঁজা আনা হচ্ছিল ওড়িশা থেকেই। তার আগে কুলটি থানার সাঁকতোড়িয়া এলাকায় ১৮৩ কেজি গাঁজা উদ্ধারেও বালিগোড়ার নাম উঠে এসেছিল।
জানা গিয়েছে, ওড়িশার কান্ধামল রাজ্যের অন্যতম দরিদ্র জেলা হিসাবে পরিচিত। বালিগোড়া মহকুমা এই জেলারই অন্তর্গত। দারিংবাড়ির মতো পর্যটনস্থল থাকলেও মহকুমার অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত করুন। জঙ্গলের কাঠ কুড়িয়ে আর ফল খেয়ে জীবনযাপন করত গরিবরা। প্রথমের দিকে দু’একজন গাঁজার চাষ শুরু করেছিল। সেটা ক্রমেই সংক্রমণের মতো ছড়িয়ে পড়ে। চাহিদাও বাড়তে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কারণ, বালিগোড়ার গাঁজার না কি জোর দম রয়েছে। গুণমানও দেশের সেরা। স্বভাবতই ধীরে বদলে যেতে থাকে সেখানকার জীবনযাত্রার মান। গরিব লোকেরা চাষ করে। আর দেশজুড়ে কারবারে যুক্ত বড় সিন্ডিকেট। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বালিগোড়ায় একরের পর একর জমিতে গাঁজা চাষ হচ্ছে। তারপর তা শুকিয়ে বিশেষ প্যাকিং করে গাঁজার স্ল্যাব বানানো হচ্ছে। সেগুলি পাচার করছে সিন্ডিকেট। বালিগোড়ার গাঁজা কারবারের বিষয়টি পক্ষান্তরে হলে মেনে নিয়েছেন সেখানকার এসডিপিও রমেন্দ্র প্রসাদ। ফোনে তিনি বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিক বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাই। মঙ্গলবারই এক টন গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’
গত বছর ডিসেম্বর মাসে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার পুলিস একটি গাড়ি থেকে ৭৫ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে। ধরা পড়ে ভরতকুমার জয়সওয়াল নামে এক পাচারকারী। বাড়ি মেনগেট এলাকা। পাকড়াও করা হয় তার তিন সহযোগীকেও। তাদের বাড়ি মুর্শিদাবাদের রানিনগরে। তদন্তে উঠে আসে, গাঁজার সরবরাহ করছে বালিগোড়া থানা এলাকার বাসিন্দারা। নির্দিষ্ট নাম পেয়ে ওয়ারেন্ট নিয়ে সেখানে হানাও দেয় পুলিস। গিয়ে তাজ্জব অফিসাররা। বালিগোড়ার ঘরে ঘরে গাঁজার চাষ ও কারবার। অভিযুক্তেরও সন্ধান মেলেনি। ওসি মইনুল হক বলেন, ‘আমাদের টিম বালিগোড়ায় অভিযানে গিয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি।’ এদিকে, রবিবারই কুলটি থানা এলাকায় ১৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এসিপি (কুলটি) জাভেদ হোসেন বলেন, ‘গাঁজা আনা হচ্ছিল ওড়িশা থেকেই। তার আগে কুলটি থানার সাঁকতোড়িয়া এলাকায় ১৮৩ কেজি গাঁজা উদ্ধারেও বালিগোড়ার নাম উঠে এসেছিল।
জানা গিয়েছে, ওড়িশার কান্ধামল রাজ্যের অন্যতম দরিদ্র জেলা হিসাবে পরিচিত। বালিগোড়া মহকুমা এই জেলারই অন্তর্গত। দারিংবাড়ির মতো পর্যটনস্থল থাকলেও মহকুমার অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত করুন। জঙ্গলের কাঠ কুড়িয়ে আর ফল খেয়ে জীবনযাপন করত গরিবরা। প্রথমের দিকে দু’একজন গাঁজার চাষ শুরু করেছিল। সেটা ক্রমেই সংক্রমণের মতো ছড়িয়ে পড়ে। চাহিদাও বাড়তে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কারণ, বালিগোড়ার গাঁজার না কি জোর দম রয়েছে। গুণমানও দেশের সেরা। স্বভাবতই ধীরে বদলে যেতে থাকে সেখানকার জীবনযাত্রার মান। গরিব লোকেরা চাষ করে। আর দেশজুড়ে কারবারে যুক্ত বড় সিন্ডিকেট। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বালিগোড়ায় একরের পর একর জমিতে গাঁজা চাষ হচ্ছে। তারপর তা শুকিয়ে বিশেষ প্যাকিং করে গাঁজার স্ল্যাব বানানো হচ্ছে। সেগুলি পাচার করছে সিন্ডিকেট। বালিগোড়ার গাঁজা কারবারের বিষয়টি পক্ষান্তরে হলে মেনে নিয়েছেন সেখানকার এসডিপিও রমেন্দ্র প্রসাদ। ফোনে তিনি বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিক বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাই। মঙ্গলবারই এক টন গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’



