নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিজেপি পরিচালিত শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সঙ্গীতা আদক মাইতি বৃহস্পতিবার তৃণমূলে যোগ দিলেন। এদিন তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলা পার্টি অফিসে তাঁর হাতে পতাকা তুলে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজিত রায়, বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, উত্তম বারিক, তাপসী মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০২৩সালে ১৪আগস্ট পূর্ব মেদিনীপুরের ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতিতেই বোর্ড গঠন হয়েছিল। ঠিক তার দু’বছর পর বৃহস্পতিবার ১৪আগস্ট বিজেপি পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী তৃণমূলের পতাকা ধরলেন। পঞ্চায়েত সমিতির আরও দু’জন সদস্য তৃণমূলে আসতে চলেছেন বলে তৃণমূলের দাবি। তারপরই পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতিতে অনাস্থা আনা হবে বলে বিধায়ক সৌমেনবাবু জানান।
২০২৩সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় শহিদ মাতঙ্গিনী, কাঁথি-১, খেজুরি-২ ও নন্দীগ্রাম-২পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। নন্দীগ্রাম-১পঞ্চায়েত সমিতিতেও টসে জয়ী হয় বিজেপি। শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির মোট ৩০টি আসন। তারমধ্যে বিজেপি ১৬টি, তৃণমূল ১৩টি এবং সিপিএম একটি আসনে জয়ী হয়। সিপিএম বোর্ড গঠনে বিজেপিকে সমর্থন করে। বোর্ড বিজেপি দখল করলেও নিজেদের দুই গোষ্ঠীর রেষারেষিতে স্থায়ী সমিতি গঠনের দিন অফিস চত্বরে ব্যাপক মারপিট হয়। তৎকালীন জেলা সভানেত্রী তাপসী মণ্ডলের সঙ্গে তুমুল ঝামেলায় জড়ান পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সঙ্গীতাদেবী। কয়েক মাস আগে তাপসীদেবী তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁরই বিপক্ষ শিবিরের নেত্রী সঙ্গীতাদেবীও এদিন শাসক দলে যোগ দিলেন। সেই যোগদানে সাক্ষী রইলেন হলদিয়ার বিধায়কও।
শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের টানাপোড়েনের জেরে উন্নয়নমূলক কাজে তার প্রভাব পড়েছে। উন্নয়নের নিরিখে পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক। পাঁচদিন আগে চণ্ডীপুরে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সঙ্গীতাদেবীর বৈঠক হয়। সেখানেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।
এদিন তমলুকের বিধায়ক সৌমেনবাবু বলেন, ১৪আগস্ট কন্যাশ্রী দিবস। এই শুভদিনে আমার বিধানসভার অধীন শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সঙ্গীতা আদকমাইতি বিজেপি ছেড়ে আমাদের দলের যোগ দিলেন। উন্নয়নের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের সঙ্গী হতে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁকে আমাদের দলে স্বাগত জানানো হয়েছে। এদিনে যোগদানের পর সঙ্গীতাদেবী বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর মতো সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই। তৃণমূলের দলনেত্রী এবং দলের সেনাপতি আমাকে তাঁদের দলে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বামদেব গুছাইত বলেন, সঙ্গীতা আদক মাইতি বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হলেও দলের নির্দেশ মানতেন না। তাঁর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের যোগ ছিল। তিনি বিজেপি ছাড়লেও বোর্ডে আমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ আছি। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতিতে আমরা নতুন সভাপতি নির্বাচন করব।-নিজস্ব চিত্র