নিজস্ব প্রতিনিধি এবং সংবাদদাতা, কালনা: বর্ধমানে বর্ধমান উত্তর এবং বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে বিজেপির হিমন্ত বিশ্বশর্মার র্যালিকে টেক্কা দিল শ্রবান্তী। মঙ্গলবার প্রায় একই সময়ে বিজেপি এবং তৃণমূলের র্যালি বের হয়। কার্জনগেটে হিমন্ত বিশ্বশর্মার র্যালি সফল করতে দুই কেন্দ্রের কর্মী এবং সমর্থকদের আনা হয়। কার্জনগেট থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত র্যালি যায়। তারপরও আমজনতা দাবি করে, বিজেপির ভিড়ে তাদের কর্মী এবং সমর্থকদের তুলনায় পুলিশ, বাহিনীর সংখ্যা বেশি ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল বীরহাটা কালীতলা থেকে র্যালি শুরু করে। বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী রোড-শো করেন। তাঁকে দেখতে বীরহাটা থেকে পুলিশ লাইন বাজার পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে বহু মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। তা দেখে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী। তিনি বলেন, মানুষের এই উন্মদনাতেই বোঝা যাচ্ছে ভোটের ফল কী হতে চলছে। আমাদের জয় নিশ্চিত। বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র অবশ্য বলেন, তাদের কর্মসূচিতে জনজোয়ার নেমেছিল।
বর্ধমানে র্যালির আগে কালনার বৈদ্যপুর রথতলার মাঠে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সভা করেন। মঞ্চের সামনে চেয়ার পাতা হয়েছিল। লোকের অভাবে বহু চেয়ার ফাঁকা ছিল। হেলিকপ্টার দর্শনের পরই মাঠ ছাড়তে শুরু করেন বহু কর্মী-সমর্থক। এদিনের সভা থেকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, বাংলায় ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩ হাজার টাকা ও সরকারি কর্মচারীদের পাওনা ডিএ দেওয়া সহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন রাজ্যবাসী। শাসক দলের গুণ্ডাদের বাংলাদেশে যাওয়ার পথ খুলে দেওয়া হবে, ফেরার পথ বন্ধ থাকবে। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার, বিজেপির কাটোয়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি স্মৃতিকণা বসু সহ অন্যান্যরা।
কালনা বিধানসভায় দিন কয়েক আগে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সভার পরই বুধবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলার মাঠে সভা করেন বিজেপি নেতা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সকাল ৯টায় সভা শুরুর কথা ঘোষণা করায় সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। তবে, যতটা কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতির জন্য সভাস্থলে আচ্ছাদন লাগানো হয়েছিল, বেলা সাড়ে ১১টা বাজলেও সভাস্থলের সামনের দিকের পেছনে বহু চেয়ার ফাঁকাই থেকে যায়। প্রচণ্ড গরমে সমর্থকরা অধৈর্য্য হয়ে পরেন।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি ধনঞ্জয় হালদার বলেন, ঘোষিত সময়ের থেকে একটু দেরিতে শুরু সভা শুরু হলেও সভায় কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। চেয়ার ফাঁকা থাকার কারণ প্রচণ্ড গরমে চেয়ার ছেড়ে বহু কর্মী-সমর্থক গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। এদিনের সভার জনসমর্থন বলে দিচ্ছে শাসক দলের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।
কালনা-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রণব রায় বলেন, সভায় বিজেপির ঝাণ্ডা ধরা কয়েকজন কর্মী-সমর্থক ছাড়া মাঠে মেরে কেটে হাজার খানেক লোক ছিল বলে জানতে পেরেছি। অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা ছিল। দেশের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী থেকে বিজেপির ভিনরাজ্য তাবর হনুমানদের নিয়ে এসেও কোনো লাভ হবে না। বাংলা আবার মমতাময়। কালনা বিধানসভায় এবার তৃণমূল কংগ্রেস রেকর্ড ভোটে জয় লাভ করবে।