নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ‘গেম চেঞ্জার’ কী? এই প্রশ্নের উত্তরে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই একবাক্যে স্বীকার করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই একটি ঘোষণা প্রমাণ করেছিল, বিজেপি হাওয়া যদি সেবার কিছু থেকে থাকে, তা ছিল প্রচারেই। বাস্তবে নয়। আরও একটি বিধানসভা নির্বাচন বাংলায় আসন্ন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং এখনও তা অঙ্কে ও বহরে বাড়ছে। এবারও বেড়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সমীকরণে যদি কিছু অনুঘটকের কাজ করে থাকে, তাহলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত আর একটি প্রকল্প—যুবসাথী। কাজের খোঁজে থাকা তরুণ-তরুণীদের মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা। এই সংক্রান্ত শিবির শুরু হওয়া মাত্র যে হারে যুব প্রজন্মের আবেদনের লাইন বাড়ছে, তা বিজেপির রক্তচাপ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। সেটাই বারবার উঠে আসছে বঙ্গ ব্রিগেডের অভ্যন্তরীণ আলোচনায়। আচমকা এই ‘বেসামাল’ পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে? তার উত্তর খুঁজছেন রাজ্য নেতারা। এবং যা দেখা যাচ্ছে, ‘পরীক্ষিত’ ধর্ম লাইনেই ফিরতে বাধ্য হচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। অর্থাৎ, ‘রথ রাজনীতি’। ২০১৯ এবং একুশের মতো।
তৃণমূল বলছে, এছাড়া উপায়ও ছিল না! নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বিজেপির ‘ঘায়েল’ হয়ে পড়ে রয়েছে। জানা যাচ্ছে, উচ্চ মাধ্যমিক মিটলেই বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক রথ বের করবে বঙ্গ বিজেপি। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—বিভিন্ন জেলা পরিক্রমা করে রথগুলি পৌঁছাবে কলকাতায়। তারপর ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা আয়োজন করে সেই যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে। লালকৃষ্ণ আদবানির দেখানো এই ‘রাজনৈতিক শো’ বাংলায় আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খোদ বিজেপির অন্দরে। দলের বর্ষীয়ান এক নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এ রাজ্যের বিধানসভা কিংবা লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির রথ রাস্তায় নেমেছিল। চাকা গড়ালেও বিজেপির বঙ্গ জয় হয়ে ওঠেনি।’ অর্থাৎ বিজেপির মধ্যেই জোর চর্চা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীর জোড়া ফলার মোকাবিলা কার্যত অসম্ভব। বিজেপি রাজ্য কমিটির এক সদস্যই বলছিলেন, ‘গতবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কাউন্টার করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম। দলবদলু এক নেতা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের গল্প ভাসিয়েছিলেন, কিন্তু তা জনমানসে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।’
এবার ২ কোটি ৪২ লক্ষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে প্রায় সওয়া কোটি বেকার যুবক-যুবতী। রাজ্য বিজেপির ওই নেতার কথায়, ‘সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা থাকে মহিলা ও যুব ভোটারদের। মমতার মাস্টারস্ট্রোকের পর তাঁরা কতটা আমাদের পাশে থাকবেন, সন্দেহ আছে।’ বর্ষীয়ান এক নেতা সেই সূত্রে সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ নির্বাচনকে মনে করিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের বর্তমান রাজ্য নেতারা বারবার বলেছিল, ওপারের ভোটে জামাত সাফল্য পাবে। কিন্তু পদ্মাপারের মানুষ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এখানেও উগ্র হিন্দুত্ব কাজ করবে না। বাঙালি নিজের ঐতিহ্য মেনেই সৌভ্রাতৃত্বের পক্ষে থাকলে, বিজেপির ফল আরও খারাপ হবে।’