নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ভোটপ্রচারে এসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছিলেন, মুসলিম ভোট ভাগ হলেই এই উপনির্বাচনে তারা জিততে পারবে। তাই বামেরা কতটা মুসলিম ভোট কাটতে পারবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ঝুলিতে যে ভোট গিয়েছিল, এবার তাতে তৃণমূল তাতে ভাগ বসাতে পেরেছে কি না, সেটাও এবারের উপনির্বাচনে বোঝা যাবে।
গত লোকসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ বিধানসভা থেকে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী প্রায় ৩৭হাজার ভোট পেয়েছিলেন। যদিও তারজন্য তৃণমূলের ‘তরমুজ’ নেতাদের অবদান রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করে। বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের ব্লক সংগঠন সক্রিয় থাকলেও বিবাদমান দুই গোষ্ঠী কী করেছে তা নিয়ে জোর চর্চা রয়েছে। কয়েকদিন আগে কালীগঞ্জ বিধানসভায় প্রচারে এসে সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেন, এই আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হলে বিজেপির পক্ষে এই আসন জেতা সম্ভব। সেই ভোট কাটার জন্য বিজেপিকে বাম-কংগ্রেস জোটের উপরই ভরসা করছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কালীগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির উত্থানের পিছনে বামেদের অবদান রয়েছে। ২০০৯সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা এলাকায় বামেরা ৩২.৬২ ও বিজেপি ২২.৮৬শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০১৪সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেরা ২৯.৩৬ ও বিজেপি ২৫.১৩শতাংশ ভোট পায়। ২০১৯সালের লোকসভা নির্বাচনে দেখা যায়, বামেরা ৯.৮ ও বিজেপি ৩২.০৪শতাংশ ভোট পেয়েছিল। অর্থাৎ এই কেন্দ্রে বাম ভোট রামে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে হেরফের হয়নি। তবে তৃণমূলের ‘তরমুজ’ নেতাদের সৌজন্যে বামেদের ভোট বেড়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনেও বামেরা ১৮.২৯শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
তাই উপনির্বাচনেও সংখ্যালঘু ভোট কাটার জন্য বামেদের উপর বিজেপিকে ভরসা করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকান্তবাবুর মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট-সংগঠন বা জনকল্যাণ মূলক কাজ নয়, মেরুকরণের উপরই বিজেপির নির্বাচনী কৌশল ঠিক করে। যদিও বিজেপির কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, আমরা লোকসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জে ভালো ভোট পেয়েছি। উপনির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হবে না। সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার দু’টি পিঠ। আমরা উপনির্বাচনে ভালো ভোট পাব।