নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজের ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগে সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল। এমন অবস্থায় এবার অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দক্ষিণ কলকাতার ছাত্র ও যুব নেতা সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেনে আনল বিজেপি। পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতাও। গেরুয়া শিবিরে দাবি নস্যাৎ করেছেন তিনি।
ল’কলেজের ঘটনা নিয়ে পুলিস তদন্ত করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তরা ধরা পড়েছে। কিন্তু সোমবার বিজেপির তরফে তৃণমূল নেতা সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে আড়াল করেছিলেন। এই ধরনের নেতাই সমাজে দানবদের জন্ম দেয় এবং তাদের বাঁচিয়ে রাখে। আর কতদিন এই দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের উৎসব চলবে? এবার সময় এসেছে— অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক! রাজনীতি দিয়ে অপরাধ ঢাকার এই সংস্কৃতি এবার শেষ করতে হবে।’
পাশাপাশি বিজেপি তরফে সার্থক ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে গেরুয়া শিবির প্রশ্ন তুলেছে, ‘আশুতোষ কলেজের হেড ক্লার্ক সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সম্পত্তির যা তালিকা, তা দেখে বড় বড় ব্যবসায়ীরাও চোখ কপালে তুলবেন। ক্লার্কের মাইনে দিয়েই কি এই সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে? এই অগাধ সম্পত্তির উৎস কী?’
বিজেপির অভিযোগের জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, মিথ্যাচার ও কুৎসা রটানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘এভাবেই একের পর এক মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিজেপি আর কতদিন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবে? গুজব ছড়ানো, চরিত্র হননের চেষ্টা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো এই নোংরা রাজনীতি ওদের একমাত্র অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার পরিবারের সম্পর্কে যেসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, সেগুলি শুধুমাত্র মানহানিকরই নয়, বরং তা আমার সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার শামিল।’ একইসঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে আমারও সম্মানের অধিকার আছে এবং তা এভাবে হেয় করার অধিকার কারও নেই। আমি শীঘ্রই এবিষয়ে আইনের দ্বারস্থ হতে চলেছি।’