নয়াদিল্লি: ‘মোদির বাপকেও যেতে হবে।’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পতন প্রসঙ্গে পাটনার এক সভায় এমনই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। এর প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে পথে নামল বিজেপির নেতা-কর্মীরা। দিল্লি থেকে পাটনা, লখনউ, বেঙ্গালুরু, জম্মু পর্যন্ত সর্বত্র একই ছবি। স্লোগান, পোস্টারের পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতির কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য— প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। অবিলম্বে মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিন দিল্লির রাজাজি মার্গে খাড়্গের বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। একটি মিছিলও করা হয়। পরে পুলিশ সেই মিছিল আটকে দেয়। এনিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সঙ্গে বচসা চলে। ঘটনায় দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মলহোত্রাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পাটনায় দলের সদর কার্যালয় থেকে ‘জন আক্রোশ মার্চ’-এ অংশ নেয় পদ্মশিবিরের নেতা-কর্মীরা। খাড়্গের কুশপুত্তলিকাও পোড়ানো হয়। সকালের দিকে বেঙ্গালুরুতেও বিক্ষোভ মিছিল হয়। বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। জম্মুর ডোগরা চকেও পথ অবরোধ চলে।
খাড়্গের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব সহ শীর্ষস্তরের নেতা-মন্ত্রীরাও। পালটা ময়দানে নেমেছে হাত শিবির। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, আগে খাড়্গেজির বাবাকে অপমান করা হয়েছে। তারপরও পালটা দোষ চাপাচ্ছে বিজেপি। বাবার সমর্থনে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন পুত্র প্রিয়াঙ্ক খাড়্গেও। পাশে দাঁড়িয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল মমতা তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, খাড়্গেজি একজন বর্ষীয়ান নেতা। ৮৩-৮৪ বছর বয়স হয়েছে। উনি এই ধরনের কথা বলতেই পারেন।
মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব খোদ খাড়্গে। এদিন এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ভোট চুরির একের পর এক চক্রান্ত ধরা পড়ার পরও জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে সমস্তরকমের চেষ্টা করে যাচ্ছে মোদি সরকার। দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বলতে চাই, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে আসুন। এটি শুধুমাত্র ভোট বাঁচানোর লড়াই নয়। সংবিধান ও গণতন্ত্র বাঁচানোর সংঘর্ষ।



