সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা, পশ্চিমবঙ্গে নাম বাদের দায় সিইও’র উপর চাপাল কমিশন
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভোটারদের নাম বাতিলের আরজি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরের অফিসাররাই। আর সেই কাজ করা হয়েছে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়নি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় একথা জানিয়ে দিল জ্ঞানেশ কুমারের দপ্তর। হলফনামাটিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারর পাশাপাশি দুই নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন রয়েছে বলেও খবর।
দেশজুড়ে চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গত একমাস ধরেই নানা অভিযোগ উঠছে। ‘ফর্ম ৬’-এ বদল, ইসিআইনেট পোর্টালে গলদ, বঙ্গে ভোটারদের নাম বাতিলে খোদ কমিশনেরই অফিসারদের আরজি জানানো সহ একাধিক বিষয়ে দেশের দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা ফাঁস হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে আঙুল উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের দিকে। তার জেরেই মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। রাহুল গান্ধী সহ ‘ইন্ডিয়া’র নেতানেত্রী, সমাজকর্মী, আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশনের জবাব তলব করেছিল দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এদিন জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন সাফ জানিয়েছে, যাবতীয় অভিযোগের কোনো সারবত্তা নেই। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সামনে রেখেই এই পিটিশন করা হয়েছে। আইনের চোখে যার কোনো ভিত্তি নেই।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলায় ‘বিবেচনাধীন’ ৩২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪০১ ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বিচারকরা। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, এর মধ্যে ১৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৮৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে এসআইআর ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছিল খোদ কমিশন। শুধু তা-ই নয়, ‘অটো জেনারেটেড ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে বাংলায় ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ইআরওদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ খণ্ডনে গত ২২ অক্টোবর রাজ্যের সিইও দপ্তরের একটি চিঠির কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনেই সিইও দপ্তরের অফিসাররা ভোটারদের নাম বাদের আবেদন জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হয়েছে সেই কাজ। বিষয়গুলি কমিশনের গোচরে আনা হয়নি। যাঁদের বিরুদ্ধে এই আবেদন জমা পড়েছে, তাঁদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়েছে। তাঁরা ভোটও দিয়েছেন।’ তবে শুধু বাংলার বিষয়টি নয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগই হলফনামার ১৫টি পয়েন্টে উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন।

Advertisement

কমিশনের হলফনামা

 এসআইআর সংক্রান্ত তিন নির্দেশিকা (২০২৫ সালের জুন, ২০২৫ সালের অক্টোবর, ২০২৬ সালের মে) কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত
 মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনারদের কোনো নোট, প্রশ্ন বা প্রস্তাব কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হয় না
 ২৮ জুলাই এক অতিরিক্ত সচিবের নির্দেশিকা নিয়ে দুই কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই নির্দেশিকা বাস্তবায়িত হয়নি
 ফর্ম ৬ সংশোধিত হয়নি। শুধুমাত্র কেন্দ্র তা সংশোধন করতে পারে। এসআইআর ঘোষণা সম্পূর্ণ একটি আলাদা নথি
 পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার বিরুদ্ধে আবেদনগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের আধিকারিকরা দায়ের করেছিল। বিষয়টি কমিশনের নজরে আনা হয়নি