


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিজেপি জেলা সভাপতির টাকা তছরুপ। অভিযুক্ত দলেরই প্রাক্তন বুথ সভাপতি। সেই তথ্য সমাজমাধ্যমে লিখে জানালেন খোদ সভাপতি। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হুগলি (সাংগঠনিক) জেলায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ভোটের প্রাক্কালে তা নানাভাবে ডালপালা মেলছে। কোথাও সমব্যথীর সুর তো, কোথাও রাজনৈতিক কটাক্ষ। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। অভিযোগ, বিজেপি জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবসার ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন তাঁর দোকানেরই কর্মী তথা বিজেপি নেতা শিবশংকর কর্মকার। গত মঙ্গলবার থেকে আচমকা উধাও হয়ে গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সমাজমাধ্যমে ওই নেতাকে নিয়ে লেখার পাশাপাশি চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন গৌতমবাবু।
বৃহস্পতিবার গৌতমবাবু বলেন, আমার বৈদ্যুতিন সামগ্রীর ব্যবসা। সেই ব্যবসার কাজ দেখতেন শিবশংকর। কাপাসডাঙার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি গত কয়েকদিন ধরেই হিসাব দিচ্ছিলেন না। গত মঙ্গলবার থেকে তাঁকে আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি, ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতেও নেই। তাঁর কাছে আমার ব্যবসার প্রায় ২০ লক্ষ টাকা রয়েছে। সন্দেহ নেই, ওই ব্যক্তি চিটিং করেছেন। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, সমাজমাধ্যমেও আমার আক্ষেপের কথা লিখেছি। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবশংকর কর্মকার শুধু বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির ব্যবসার কর্মী ছিলেন তাই নয়, তিনি দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকতেন। এক সময় তিনি বুথ সভাপতিও ছিলেন। এহেন নেতার কাণ্ড এবং তা নিয়ে বিজেপি সভাপতির সমাজমাধ্যমে লেখালেখি ঘিরে চর্চার পালে তুফান উঠেছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ঘটনার কথা সমাজমাধ্যমে লেখায় দলের অন্দরেই এ নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে। বিশেষ করে ভোটের ময়দানে তৃণমূলের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হল বলেই অনেক নেতা মনে করছেন। তবে লক্ষাধিক টাকা ক্ষতির বিষয়টি ব্যক্তিগত স্তরে স্পর্শকাতর হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষেত্রেও পদ্মপার্টির নেতারা সংযত থেকেছেন। তৃণমূল নেতা তথা চুঁচুড়া পুরসভার সিআইসি সদস্য জয়দেব অধিকারী বলেন, ব্যবসায়ী গৌতমবাবুর জন্য দুঃখপ্রকাশ করতেই হবে। তবে ওই ঘটনা বিজেপি নেতা-কর্মীদের চরিত্রকেও সামনে এনেছে। যাঁরা দলের নেতার সঙ্গেই বেইমানি করেন, তাঁরা মানুষের সঙ্গে কী করবেন?
জানা গিয়েছে, শিবশংকর ২০২৪ সালে গৌতমবাবুর প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেন। গৌতমবাবুর হয়ে তিনিই সব কাজ দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ, গত একমাস ধরে তিনি ঠিকঠাক হিসাব দিচ্ছিলেন না। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে ফোন সুইচড অব করে গায়েব হয়ে গিয়েছেন। চুঁচুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকেও খোঁজা হচ্ছে।