নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: জল্পনা ছিলই। অবশেষে পুরুলিয়ার জেলা সভাপতি পদে রদবদল করল বিজেপি। এতদিন জেলা সভাপতি ছিলেন বিবেক রাঙা। তাঁকে সরিয়ে শঙ্কর মাহাতকে জেলা সভাপতি করল বিজেপি। অবাঙালি ব্যক্তিকে সরিয়ে কুড়মি জনজাতির প্রতিনিধিকে জেলা সভাপতি করে বিজেপি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছে। এক, ভোট ব্যাঙ্ক মজবুত করা। দুই, দলের অন্দরের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করা। কিন্তু, তা তো হলই না, বরং বিদ্রোহ আরও বেশি করে চাগাড় দিয়ে উঠল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
মাহাত এবং আদিবাসী অধ্যুষিত পুরুলিয়া জেলার সভাপতি হিসেবে বিবেক রাঙাকে মেনে নিতে আপত্তি ছিল দলের অধিকাংশেরই। বিবেক যাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, সেই বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীও একেবারেই তাঁকে পছন্দ করতেন না। ‘ব্যবসায়ী’ বিবেককে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ভূরিভূরি অভিযোগও জানিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়করা। যদিও মাথায় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর আশীর্বাদের হাত থাকায় তাঁকে সরানো যায়নি। এনিয়ে জে পি নাড্ডাকেও অবগত করেছিলেন ‘বিদ্রোহী’রা। কিন্তু, কাজ হয়নি। বরং জেলা সভাপতি ও সাংসদের ‘জগাই-মাধাই’ জুটি ক্রমশই ছড়ি ঘোরাতে থাকে অন্যান্য নেতাদের উপর। দলে কোণঠাসা হয়ে যেতে থাকে বিধায়কদের একাংশ। বিরোধী দলনেতা ঘনিষ্ঠ নেতাদেরও কার্যত কোণঠাসা করে রেখে দেওয়া হয়। যার সরাসরি প্রভাব দেখা গিয়েছিল মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। এনিয়ে বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে অবশেষে জেলা সভাপতি পরিবর্তনের ভাবনা চিন্তা করে দল। নাম না প্রকাশের শর্তে দলের এক নেতা বলেন, সাংসদ চেয়েছিলেন বিবেকই জেলা সভাপতি থাকুক। কিন্তু, দল চায়নি। দলের বিধায়কদেরও জোরালো আপত্তি ছিল। বিবেকের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগও পৌঁছেছিল। তাই জেলা সভাপতি পরিবর্তন হবে বলেই ঠিক হয়।
এনিয়ে বিবেকবাবু বলেন, তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর দল যা দায়িত্ব দেবে, তা পালন করব।
বিবেকের পরিবর্তে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শঙ্করবাবুকে। কিন্তু, তাঁকে নিয়েও দলের অন্দরে ক্ষোভ কম নেই। এক বিক্ষুব্ধ নেতা বলেন, বিবেককে সরিয়ে যাঁকে জেলা সভাপতি করা হল, তিনি তো তৈলমর্দনে বিবেকেরও উপরে! সাংসদের আরও ঘনিষ্ঠ! দলের নেতাদের ক্ষোভ, বর্তমানে দলের যা পরিস্থিতি, তাতে একজন অভিজ্ঞ দক্ষ সংগঠককে জেলা সভাপতি হিসেবে প্রযোজন ছিল। কিন্তু, যাঁকে জেলা সভাপতি করা হল, তিনি তো কার্যত হাতুড়ে ডাক্তার! এভাবে কি নির্বাচন জেতা যায়? কোনও আলোচনা ছাড়াই শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সিদ্ধান্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে! বিজেপি সূত্রের খবর, নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি শঙ্করবাবু বিজেপির আদি নেতা হিসেবেই পরিচিত। ঝালদার বাসিন্দা শঙ্করবাবুর ১৯৯৮ সালে বিজেপির বুথ সভাপতি হিসেবে উত্থান শুরু। তারপর একাধিক পদ সামলে ২০২০ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক হন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বলেন, আমার মূল লক্ষ্যই হল দলকে শক্তিশালী করা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলার সাতটি বিধানসভাতেই পদ্ম ফোটাব। এনিয়ে পাল্টা তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথোরিয়া বলেন, কুঁজোরও চিত হয়ে শোয়ার ইচ্ছা হয়। সেই ইচ্ছা পূরণ হয় কি? বিজেপিরও সেই দশা হবে।