দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দু’টো খণ্ডচিত্র। নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ। বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। একটি রাস্তা সোজা চলে গিয়েছে নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের দিকে। সেই রাস্তার বাঁদিকেই দলের সদর দপ্তর। কিছুটা এগিয়ে উল্টোদিকেই বিজেপির আরও একটি পার্টি অফিস। দলের সম্প্রসারিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়। প্রতিটি কার্যালয়ের সামনেই বিজেপির নেতাকর্মী, সমর্থকদের ভিড়। তা সামলে যানবাহন চলাচলের রাস্তা করে দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে দিল্লির ট্র্যাফিক পুলিসকে।
Advertisement
নয়াদিল্লির ফিরোজ শাহ রোড। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঠিকানা। বাড়ি থেকে একটু পিছিয়ে গলির মধ্যে ঢুকলেই পণ্ডিত রবিশঙ্কর শুক্লা লেনের শুরু। আম আদমি পার্টির বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ৯ নং অশোকা রোডে বিজেপির পুরনো সদর দপ্তরের পিছন দিক এটি। ফিরোজ শাহ রোডে কেজরিওয়ালের বাড়ির সামনে রাস্তার ধার ঘেঁষে বসে আছেন ঠিক চারজন আপকর্মী। গলায় কেজরিওয়ালের ছবি এবং ঝাড়ুর চিহ্ন আঁকা উত্তরীয় জড়ানো। দৃশ্যতই বিধ্বস্ত, ক্লান্ত। এলাকাজুড়ে কড়া পুলিসি নিরাপত্তা অবশ্য রয়েছে।
শনিবার দিল্লি ভোটের নির্বাচনী ফল প্রকাশের আবহ সঠিকভাবে বোঝার জন্য সম্ভবত এই দু’টি খণ্ডচিত্রই যথেষ্ট। প্রায় তিন দশক পরে দিল্লির মসনদে একপ্রকার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হয়েছে বিজেপির। তাই এদিন দিল্লির রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত আবেগ এবং উচ্ছ্বাসে ভাসলেন দলের নেতাকর্মী, সমর্থকরা। বুক চাপড়ে কান্না থেকে দলীয় পতাকা হাতে রাজপথজুড়ে দৌড়। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ই হোক কিংবা পণ্ডিত পান্থ মার্গে দলের দিল্লি প্রদেশ দপ্তর—একইরকম উন্মাদনা দেখা গিয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে, ২৭ বছর পরে দিল্লিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। বেলা যত বেড়েছে, ভোট গণনার সেই ‘প্রবণতা’ ক্রমশ পরিষ্কার হয়েছে। ভিড় বেড়েছে পার্টি কার্যালয়গুলির সামনে। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে গিয়েছে কয়েকশো কেজির গেরুয়া আবির। এমনকী পার্টি অফিসের সামনে চোখে পড়েছে লাড্ডুর প্যাকেট কার্যত ছিনতাইয়ের দৃশ্যও! একটি বা দু’টি লাড্ডুর মিষ্টিমুখে এই জয়ের উদযাপন করতে চাননি বিজেপি সমর্থকদের একাংশ। ব্যান্ড, তাসাপার্টির সশব্দ সেলিব্রেশনে তখন কান পাতা দায়। পণ্ডিত পান্থ মার্গে বিজেপি দপ্তরের সামনে আতশবাজির একটি ‘চেইন’এ অগ্নি সংযোগের চেষ্টা করছিলেন এক কর্মী। তিনবারের চেষ্টায় জ্বলল আগুন। হেসে বললেন, ২৭ বছর পর তো! তাই কয়েকবার চেষ্টা করতে হল। এবার দেখবেন কেমন নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। তীব্র শব্দে ঢেকে গেল ওই বিজেপি কর্মীর দার্শনিকতা। দিল্লি বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব পার্টি কার্যালয়ে এসে পৌঁছতেই তাঁকে কোলে তুলে নিলেন কর্মী, সমর্থকরা।
একেবারেই বিপরীত ছবি নজরে পড়ল আপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ঠিক যেন শ্মশানের নীরবতা। জয় হচ্ছেই ধরে নিয়ে প্রস্তুতি চলেছিল আপ কার্যালয়ে। কিন্তু এদিন বেলা যত বেড়েছে, তত বোঝা গিয়েছে যে ১০ বছর পর ক্ষমতা হাতছাড়া হচ্ছে আম আদমি পার্টির। ফলে পার্টি অফিসে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তালা। পরে অবশ্য তা খোলা হয়েছে। যদিও সেভাবে কোনও নেতাকর্মীর দেখা মেলেনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেকরেটর সংস্থা দুপুরের পরেই খুলে নিয়ে গিয়েছে যাবতীয় সাজসজ্জা। জলে বিষের তত্ত্ব মানেননি আম আদমিই। ওই অভিযোগ না করলেই হতো। বলছেন আপ কর্মীরাই।
শনিবার দিল্লি ভোটের নির্বাচনী ফল প্রকাশের আবহ সঠিকভাবে বোঝার জন্য সম্ভবত এই দু’টি খণ্ডচিত্রই যথেষ্ট। প্রায় তিন দশক পরে দিল্লির মসনদে একপ্রকার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হয়েছে বিজেপির। তাই এদিন দিল্লির রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত আবেগ এবং উচ্ছ্বাসে ভাসলেন দলের নেতাকর্মী, সমর্থকরা। বুক চাপড়ে কান্না থেকে দলীয় পতাকা হাতে রাজপথজুড়ে দৌড়। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ই হোক কিংবা পণ্ডিত পান্থ মার্গে দলের দিল্লি প্রদেশ দপ্তর—একইরকম উন্মাদনা দেখা গিয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই স্পষ্ট হয়েছে যে, ২৭ বছর পরে দিল্লিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। বেলা যত বেড়েছে, ভোট গণনার সেই ‘প্রবণতা’ ক্রমশ পরিষ্কার হয়েছে। ভিড় বেড়েছে পার্টি কার্যালয়গুলির সামনে। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে গিয়েছে কয়েকশো কেজির গেরুয়া আবির। এমনকী পার্টি অফিসের সামনে চোখে পড়েছে লাড্ডুর প্যাকেট কার্যত ছিনতাইয়ের দৃশ্যও! একটি বা দু’টি লাড্ডুর মিষ্টিমুখে এই জয়ের উদযাপন করতে চাননি বিজেপি সমর্থকদের একাংশ। ব্যান্ড, তাসাপার্টির সশব্দ সেলিব্রেশনে তখন কান পাতা দায়। পণ্ডিত পান্থ মার্গে বিজেপি দপ্তরের সামনে আতশবাজির একটি ‘চেইন’এ অগ্নি সংযোগের চেষ্টা করছিলেন এক কর্মী। তিনবারের চেষ্টায় জ্বলল আগুন। হেসে বললেন, ২৭ বছর পর তো! তাই কয়েকবার চেষ্টা করতে হল। এবার দেখবেন কেমন নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। তীব্র শব্দে ঢেকে গেল ওই বিজেপি কর্মীর দার্শনিকতা। দিল্লি বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব পার্টি কার্যালয়ে এসে পৌঁছতেই তাঁকে কোলে তুলে নিলেন কর্মী, সমর্থকরা।
একেবারেই বিপরীত ছবি নজরে পড়ল আপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ঠিক যেন শ্মশানের নীরবতা। জয় হচ্ছেই ধরে নিয়ে প্রস্তুতি চলেছিল আপ কার্যালয়ে। কিন্তু এদিন বেলা যত বেড়েছে, তত বোঝা গিয়েছে যে ১০ বছর পর ক্ষমতা হাতছাড়া হচ্ছে আম আদমি পার্টির। ফলে পার্টি অফিসে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তালা। পরে অবশ্য তা খোলা হয়েছে। যদিও সেভাবে কোনও নেতাকর্মীর দেখা মেলেনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেকরেটর সংস্থা দুপুরের পরেই খুলে নিয়ে গিয়েছে যাবতীয় সাজসজ্জা। জলে বিষের তত্ত্ব মানেননি আম আদমিই। ওই অভিযোগ না করলেই হতো। বলছেন আপ কর্মীরাই।



