Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপি নেতাকে টাকা দিয়েও আবাস তালিকায় নাম নেই, উত্তাল সংসদসভা

বিজেপি নেতাকে টাকা দিয়েও আবাস তালিকায় নাম নেই, উত্তাল সংসদসভা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সোমবার নন্দীগ্রাম-২ব্লকের আমদাবাদ-১গ্রাম পঞ্চায়েতে আবাস যোজনা নিয়ে গ্রাম সংসদ সভা উত্তাল হয়ে উঠল। সভায় রেজ্যুলিউশন খাতা ছিঁড়ে লুট করা হয়। সরকারি অফিসার ও কর্মীদের উপর চড়াও হন আবাসের তালিকায় নাম না থাকা লোকজন। পুলিস কোনওরকমে ব্লক থেকে আসা পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার ভাস্কর সেনগুপ্ত এবং নির্মাণ সহায়ক আকসারুল খানকে সভাকক্ষ থেকে বের করে একটা ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। টাকা নেওয়ার পরও কেন আবাস তালিকায় নাম উঠল না, তা নিয়ে স্থানীয় সুবদি, যাত্রাখালি, টাকাপুরা বাজার এলাকার লোকজন ক্ষোভ উগরে দেন। 
Advertisement
গত ২৭নভেম্বর গোটা জেলার সঙ্গে নন্দীগ্রাম-২বিডিও অফিস এবং সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আবাসের তালিকা ঝোলানো হয়েছে। শনিবার টাকাপুরা গ্রামের কিছু বাসিন্দা বিজেপি নেতা শতদ্রু প্রামাণিকের বাড়িতে চড়াও হন। শতদ্রুবাবু বিজেপির বুথ কমিটির সহ সভাপতি। তাঁর স্ত্রী শিউলি প্রামাণিক বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা। একসময় শতদ্রুবাবু তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। ২০২০সালে ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে প্রভাস ভুঁইয়া, শতদ্রু প্রামাণিক সহ আরও বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দেন। অভিযোগ, প্রভাস ভুঁইয়া, শতদ্রুবাবুরা আমদাবাদ-১গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ২৯৬জনের কাছ থেকে আবাসের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলেন। এখন প্রভাস বিজেপি থেকে ফের তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। যদিও শতদ্রু বিজেপি পার্টির স্থানীয় নেতা। উপভোক্তাদের থেকে টাকা তোলা নিয়ে ওই দুই নেতা-কর্মীরা পরস্পরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছেন। 
টাকাপুরা গ্রামের উজ্জ্বল দাস, কাঁদু রঞ্জিত, সৌম্য প্রামাণিক, অমরেশ দাস প্রমুখ বলেন, ২০১৮সালে আমাদের বাড়ি সার্ভে হয়েছিল। সেসময় বাড়ি ছবি তোলা হয়েছিল। আবাস যোজনায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল। অথচ ২৭নভেম্বর আবাস উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, আমাদের নাম নেই। সরকারি বাড়ির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার পরও কেন তালিকায় নাম নেই, সেটা জানতে চাই। 
আমদাবাদ-১গ্রাম পঞ্চায়েতের সুবদি গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা নমিতা প্রামাণিক বলেন, আবাস উপভোক্তা হিসেবে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কিছু নাম বাদ গিয়েছে। তবে, এদিন আবাস তালিকায় বাদ যাওয়া সকলে একযোগে গ্রাম সংসদ সভায় গিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকাপুরা বুথের বিজেপি নেতা শতদ্রুবাবু বলেন, আমরা তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন আবাস উপভোক্তাদের বাড়ির ছবি তোলার সময় টাকা তুলেছিলাম। এভাবে ২৯৬জনের কাছ থেকে মাথাপিছু ৪০০-৫০০টাকা তোলা হয়েছিল। সেই টাকা প্রভাস ভুঁইয়ার কাছে রাখা হয়। যদিও প্রভাসবাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আবাসের টাকা তোলার সঙ্গে তিনি কোনওভাবে জড়িত নন।  
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত আমদাবাদ-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুতপা রানা মান্না বলেন, গ্রাম সংসদ সভায় ঝামেলার আশঙ্কায় বিডিও আগে থেকেই পুলিস মোতায়েন রেখেছিলেন। যদিও সভায় ঝামেলা এড়ানো যায়নি। নন্দীগ্রাম-১বিডিও সুপ্রতিম আচার্য বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কিছু লোক ঝামেলা করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ