


রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মাদারিহাটেই কোণঠাসা বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গা। দলীয় প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুর হয়ে ভোটের তদারকিতে বৃহস্পতিবার ময়দানে দেখাই গেল না তাঁকে। কার্যত সারাদিন ঘরবন্দি হয়েই কাটালেন তিনি। বাড়িতে বসেই ভোট নিয়ে দলীয় কর্মী, সমর্থকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুকেও এদিন কয়েকটি চা বাগান ছাড়া আর কোথাও তেমন ঢুঁ মারতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো সকাল সকাল নিজের বুথে ভোট দিয়ে দিনভর বাগানে বাগানে চুটিয়ে ভোট তদারকি করেন।
মাদারিহাট বিধানসভা আসনে ২২টি চা বাগান। জেলার অন্য চা বলয় আসনগুলির মতো এখানেও ভোটের জয়-পরাজয়ে নির্ণায়ক হয়ে ওঠেন চা শ্রমিকরা। সেজন্য বিজেপি, তৃণমূল ও বাম সহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই নজর থাকে চা বাগানগুলির দিকে। এদিন শিশুঝুমড়া, গয়েরকাটা, রাঙালিবাজনা, খয়েরবাড়ি থেকে মাদারিহাট, টোটোপাড়া, হান্টিপাড়া ও লংকাপাড়া কোথাও ভোটের তদারকি করতে দেখা গেল না বিজেপি এমপি’কে। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরেও দলীয় প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুর হয়ে বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গাকে কোথাও ভোটের তদারকি করতে দেখা যায়নি।
ভোটের ময়দানে না ঘুরে কেন বাড়িতে বসে কাটালেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মনোজ বলেন, দলীয় প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুর ভোটের তদারকির জন্য বাড়িতে অনেক কাজ ছিল। সেজন্য বাড়িতে বসেই দলীয় কর্মী, সমর্থকদের ভোট করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়েছি। ফলে ভোটের ময়দানেই ছিলাম।
এদিকে, হান্টাপাড়া, টোটোপাড়া, গ্যারগেন্দা, তুলসীপাড়া ও বীরপাড়া এলাকা ছাড়া বিজেপির দলীয় প্রার্থীকে সেভাবে কোথাও চোখে পড়েনি। যদিও বার বার চেষ্টা করেও বিজেপি প্রার্থীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, কার্যত ভোটের ফাঁকা ময়দানে বাগানে বাগানে চুটিয়ে দিনভর ভোটের তদারকি করেন তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো। সকাল ৭টা নাগাদ ডিমডিমা টিজি প্রাইমারি স্কুলে নিজের ভোট দিয়ে গয়েরকাটা, বিন্নাগুড়ি, ডিমডিমা, মুজনাই, বান্দাপানি, ঢেকলাপাড়া, বীরপাড়া, লংকাপাড়া, তুলসীপাড়া সহ একের পর এক বাগানে চরকির মতো ঘোরেন তিনি। বাগানে বাগানে ঘুরে ঘুরে দলীয় কর্মী, সমর্থকদের ভোটের প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও পরামর্শ দেন। দিনের শেষে তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ বলেন, নতুন করে কিছু বলার নেই। বৃহস্পতিবারের ভোটের ছবি দেখার পর নিশ্চিত হয়ে গিয়েছি, উপনির্বাচনের মতো এবারও জিতছি। • পরিবারের সঙ্গে ভোট দিলেন মনোজ টিগ্গা।