রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসে রাজভবনের অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই কুশল বিনিময় করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ বাম নেতা বিমানবাবুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এবার নবান্নে আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠকে মমতা ডাকলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও প্রাক্তন সাংসদ দশরথ তিরকেকে। সৌজন্যের পরিসরে ফের নজির গড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
যাঁরা ভোট দিয়েছেন কিংবা যাঁরা ভোট দেননি, সবার জন্য কাজ করবে এই রাজ্য সরকার। উন্নয়নের পরিকাঠামোয় এই নীতি নিয়েই চলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মা-মাটি-মানুষের সরকার। গ্রাম হোক বা শহর, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই ব্রত রাজ্যের। উন্নয়নের এই যাত্রাপথে ‘আমরা-ওরা’ তত্ত্বে বিশ্বাসী নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কারণে প্রশাসনিক সভা হোক বা রাজনৈতিক মিটিংয়ে মমতা বরাবর বলে থাকেন, এই বাংলায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান। সবার পাশেই আছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, দলগতভাবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বলে থাকে, বাংলায় গণতন্ত্র আছে বলেই বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মিটিং-মিছিল করার অনুমতি পায়।
এই সৌজন্যের আবহে নবতম সংযোজন হতে চলেছে প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপির জনপ্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ২৫ আগস্ট, বিকেল ৫টায় নবান্নে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাইবস অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের বৈঠক হতে চলেছে। এই কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন হলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর নেতৃত্বেই সেদিন বৈঠক হবে। আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে উঠে আসবে বলে ধারণা।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে। আমন্ত্রিত সদস্যের ১৫ জনের তালিকার প্রথমেই নাম রয়েছে খগেনবাবুর। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজ্য সরকারি স্তর থেকে আমায় ফোন করে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠি পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। সংসদের অধিবেশনে গত কয়েকদিন ব্যস্ত ছিলাম। সংসদের অধিবেশন শেষ হয়েছে। এখন একটু দেখে নিই আগামী ২৫ আগস্ট দলের কোনও কর্মসূচি বা আমার সংসদীয় এলাকায় কোনও অনুষ্ঠান আছে কি না। সবটা দেখে নিয়েই নবান্নে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
আমন্ত্রিতের তালিকায় নাম রয়েছে আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ তথা অধুনা বিজেপি নেতা দশরথ তিরকের। তাঁর বক্তব্য, ‘নবান্নে বৈঠকের চিঠি পেয়েছি। আমি বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়ে যোগ দেব এবং আমার মতামত জানাব।’
এর আগে ২০২২ সালে শিলিগুড়িতে আদিবাসী কউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন খগেন ও দশরথ। ফলে আসন্ন চতুর্থ বৈঠকে সেখানে তাঁরা নবান্নে উপস্থিত হন কি না, সেটাই দেখার। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, ‘রাজ্য সরকার যথেষ্ট সম্মান ও সৌজন্য দেখিয়েছে। এখন ওঁরা যদি বৈঠকে না আসেন, তাহলে বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন।’