সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: গ্রামের উন্নয়নে নজর শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের। সেই লক্ষ্যে নকশালবাড়ি সীমান্তের গ্রামে পেভার ব্লকে তৈরি হবে রাস্তা। এই কাজের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে বরাদ্দ হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ সেই কাজের শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে এসে কার্যত স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, আমরা পঞ্চায়েতের তিনটিস্তরে জয়ী হয়ে গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দিচ্ছি। অথচ সাংসদ ও বিধায়ক তাদের কার্যকালের মেয়াদে কোনও অঞ্চলে ছোট কাজও করেননি। এবার মানুষই কাজ দেখে ভোট বাক্সে বিচার করবেন। যদিও মাটিগাড়া–নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক সভাধিপতির অভিযোগ মানতে রাজি নন। তাঁর পাল্টা যুক্তি, বিধায়কদের ফান্ড বছরে ৬০লক্ষ টাকা। এখানে বিরোধীদের কাজ করতে দেওয়া হয় না। সরকার, পঞ্চায়েত সবই ওদের দখলে। তাও গ্রামে অনুন্নয়ন কেন! এদিন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সজনী সুব্বা, মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষ সহ এসএসবির আধিকারিকরা।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সূত্রে খবর, কিলারামজোতের রাজীব মোড় থেকে সুরজবরের মা সন্তোষী মন্দির পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি ৩০০ মিটার পেভার ব্লকের রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ২ কোটি ৬০লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এনিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের মারফত বারবার আবেদন পেয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে আবেদন করেছি। এরপর সেই সুবাদে পেভার ব্লকের রাস্তার জন্য প্রায় ২ কোটি ৬০লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে। এদিকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নাম না করে বিধায়ক ও সাংসদকে কটাক্ষ করেন সভাধিপতি। তাঁর কথায়, নির্বাচনের সময় বিজেপি নেতাদের মুখ দেখা যায়। জয়ের পর উধাও হয়ে যাওয়ার রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। মানুষ কাজ দেখার পর সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারত নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন ওই গ্রামীণ রাস্তাটি গত কয়েকদশক ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। ইতিমধ্যে ওই রাস্তার আশেপাশে বসতি গজিয়ে উঠতে শুরু করেছে। কৃষিপ্রধান ওই এলাকার রাস্তাটি হলে স্থানীয় চাষীদের যাতায়াতের সমস্যা মিটবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এসএসবির বড় যানবাহন অবাধে যাতায়াত করতে পারবে।