Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ: জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরলেন বিজেপির বিধায়ক, বিতর্ক তুঙ্গে

জাতীয় মহিলা কমিশনের সঙ্গেই ‘জোট বেঁধে’ সামশেরগঞ্জের উপদ্রুত এলাকায় ঘুরতে দেখা গেল বিজেপির ইংরেজবাজারের বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকে।

মুর্শিদাবাদ: জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরলেন বিজেপির বিধায়ক, বিতর্ক তুঙ্গে
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: জাতীয় মহিলা কমিশনের সঙ্গেই ‘জোট বেঁধে’ সামশেরগঞ্জের উপদ্রুত এলাকায় ঘুরতে দেখা গেল বিজেপির ইংরেজবাজারের বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে মুর্শিদাবাদ ইস্যুতে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি, এমনই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপাকে এদিন মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। এদিকে, মহিলা কমিশনের সদস্যরা উপদ্রুত এলাকায় গ্রামের মহিলাদের সাদা কাগজে সই করিয়ে নিচ্ছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে শাসকদল।

Advertisement

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, জাতীয় মহিলা কমিশন সন্দেশখালি যাওয়ার সময় থেকেই যাবতীয় কুৎসা, অপপ্রচার শুরু হয়েছিল। রেখা শর্মাজি ও তাঁর টিম দেখিয়েছিলেন, কীভাবে বঙ্গবিরোধী কুৎসা রটানো যায়। সেটাই মুর্শিদাবাদে করা হচ্ছে। মহিলাদের সাদা কাগজে সই করিয়ে পরে তাতে ইচ্ছেমতো কুৎসা ও মিথ্যা বসিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। জাতীয় মহিলা কমিশন মানে বিজেপির মহিলা মোর্চার শাখা। এঁরা বাংলা ছাড়া অন্যত্র জায়গা পান না। যখন মণিপুর জ্বলে, উত্তরপ্রদেশের উন্নাও, হাথরাস, মধ্যপ্রদেশে কোনও ঘটনা ঘটে, তখন এঁরা কোথায় থাকেন? আসলে নিজেদের রাজনৈতিক উন্নতির জন্য এসব তাঁরা করছেন।
গত শুক্রবার থেকে সামশেরগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় তাণ্ডব চালানো হয়। বহু বাড়ি ভাঙচুর, কোথাও কোথাও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই ভয়ে ঘর ছেড়ে মালদার বৈষ্ণবনগরে আশ্রয় নেন। শান্তি ফেরাতে এখন সেখানে পুলিস ও আধাসেনা টহল দিচ্ছে। পুলিস ও প্রশাসনের যৌথ চেষ্টায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ঘরছাড়ারা অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন। প্রশাসনর পুনর্বাসনের জন্য সমস্ত সামগ্রী দিয়েছে। অনেকে ত্রাণশিবিরে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত শুরু করেছেন। এদিন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদল এসে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন। বেতবোনা গ্রামে বিজেপি বিধায়ক ও মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে এলাকায় ঘোরেন।
জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল শনিবার সকালে সামশেরগঞ্জে আসে। তাঁরা প্রথমেই বেতবোনা গ্রামে যান। কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে পেয়ে এলাকার মহিলারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা গ্রামে স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্পের দাবি তোলেন। কমিশনের প্রতিনিধিরা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। আমরা সমস্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে দেব। এলাকায় বিএসএফ ও সিআরপিএফ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছে।
বিধায়ক তথা তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, জাতীয় মহিলা কমিশন এসেছেন ভালো কথা। কিন্তু ওঁদের সঙ্গে বিজেপি বিধায়ককে কেন দেখা গেল? আমরা প্রথম থেকেই বলছি, বিজেপি চক্রান্ত করে এঘটনা ঘটিয়েছে। এখন পুলিস ও প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পর পদ্মের নেতানেত্রীরা এসে ঘোঁট পাকানোর চেষ্টা করছে।
এদিন একই এলাকায় যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি সেখান থেকে বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে এসে ট্রেনে কলকাতা রওনা দেন। ট্রেনে ওঠার আগে প্লাটফর্মে সাংবাদিক সম্মেলন করার পর তিনি স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করেন। বহরমপুরের বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার বলেন, এর আগেও রাজ্যপাল বহরমপুর এলে আমরা আলাদা করে দেখা করেছি। এদিনও উনি আমাদের সময় দেন। রাজ্যপালের সঙ্গে পদ্ম নেতাদের সাক্ষাৎ ঘিরেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ