Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দকুমারের প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সির ভূমিকা নিয়ে সরব বিজেপির বিধায়ক

ফলতায় বিডিও থাকাকালীন শানু বক্সিকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই নন্দকুমারে তাঁর সময়ের নানা ঘটনা নিয়ে সরব হল বিজেপি

নন্দকুমারের প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সির ভূমিকা নিয়ে সরব বিজেপির বিধায়ক
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ফলতায় বিডিও থাকাকালীন শানু বক্সিকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই নন্দকুমারে তাঁর সময়ের নানা ঘটনা নিয়ে সরব হল বিজেপি। কাটমানি আদায় থেকে গত পঞ্চায়েত ভোটে ব্যালট ভেঙে কাউন্টিংকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে তাঁকে নিশানা করলেন নন্দকুমারের বিধায়ক বিজেপির নির্মল খাঁড়া। ২০২১সালে বিধানসভা ভোটের পর নন্দকুমার ব্লকে যোগ দেন শানু বক্সি। ২০২৩সালে তিনি নন্দকুমারের বিডিও থাকাকালীন পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। সেই ভোটে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে নানাভাবে সাহায্য করেছিলেন বলে প্রশ্ন উঠেছিল। গণনাকেন্দ্রে কারচুপি করে তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেক জায়গায় জেতানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, শানুদেবী বর্তমানে মালদহের হরিশচন্দ্রপুর-১ বিডিও হিসাবে কর্মরত। 

Advertisement

২০২৩সালে পঞ্চায়েত ভোটের পর বোর্ড গঠন নিয়েও নন্দকুমারের তৎকালীন বিডিওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। শীতলপুর পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বাম-বিজেপি জোট বোর্ড গঠনের তৎপরতা শুরু করেছিল। ২০২৩সালে ১৩আগস্ট বোর্ড গঠন উপলক্ষ্যে ডাকা সভায় জোটের প্রধান পদপ্রার্থী শেখ আব্দুল জব্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই গ্রেপ্তার নিয়ে প্রবল বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক অবরোধ ও পুলিশের লাঠিচার্জে উত্তাল হয়েছিল এলাকা। তারপর তৃণমূলের সদস্যাকে প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছিল। হাইকোর্ট সেই ঘটনায় শুধু ভর্ৎসনা করেনি, প্রধানকে অবিলম্বে অপসারণ করে ছ’মাসের মধ্যে নতুন প্রধান নির্বাচনের রায় দিয়েছিল। 
যার পরিপ্রক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে পঞ্চায়েত বোর্ড দখল করেছিল বাম-বিজেপি জোট। আব্দুল জব্বার সাহেব প্রধান হন। সেই ঘটনাতেও বিডিওর ভূমিকা নিয়ে বিজেপি প্রশ্ন তুলেছিল। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও বাম-বিজেপিকে বোর্ড গড়তে না দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বোর্ড গড়তে সাহায্য করেছিল ব্লক প্রশাসন।
নন্দকুমারের বিধায়ক নির্মল খাঁড়া বলেন, শানু বক্সি ২০২২-’২৩সালে এখানকার বিডিও থাকার সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে কাটমানি আদায় করতেন। ২০২৩সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার দে এবং আর এক নেতা শিবপ্রসাদ সামন্তর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বিজেপিকে হারানো হয়েছিল। গণনার নামে প্রহসন করেছিলেন। এই বিডিওর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রবাদী সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। 
এপ্রসঙ্গে বিডিও শানুদেবী বলেন, কারো কাছে কাটমানি নিয়ে থাকলে প্রমাণ দেখাতে বলবেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জেলায় জমা দেওয়া আছে। সেটা থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে, আমি কোনো কারচুপি করেছি কি না! আমি রাজনীতি দেখে কাজ করিনি। যখন মানুষ কোনো কাজ নিয়ে এসেছে আমি তা করে দিয়েছি।  
নন্দকুমারের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুকুমার দে বলেন, পঞ্চায়েতের গণনা চলাকালীন তৎকালীন বিডিওকে ম্যানেজ করে বিজেপির লোকজন ভোটের ফল উলটে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমাদের কর্মীরা সেটা হতে দেয়নি। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, একটা সময়ের পর ওই বিডিও বিজেপির কথা বেশি কর্ণপাত করতেন। আমাদের খুব একটা পাত্তা দিতেন না। এখন নবনির্বাচিত বিধায়ক যা খুশি তাই বলছেন। আমি তিনবারের বিধায়ক। ন্যূনতম সম্মান না দিয়ে দোষারোপ করছেন। আমি সততার সঙ্গে দল করেছি। ঈশ্বরের প্রতি আমার আস্থা আছে। তিনিই সব বিচার করবেন।  শানু বক্সি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ