নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সদলবলে থানায় গিয়ে পুলিশ অফিসারদের শাসালেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। তিনি থানার আইসিকে রীতিমতো হুমকিও দেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজিরও অভিযোগ তুলেছেন। এমনকী, এলাকায় গাঁজা, মদ, ড্রাগস বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ শাসকদলেরই বিধায়ক! রবিবার রাতে নারায়ণপুর থানার এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে। আইসি তথা পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তেরও আশ্বাস দিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেট। অন্যদিকে, ওইদিন রাতেই নারায়ণপুরে একাধিক তৃণমূল কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
রবিবার রাতে আচমকাই দলবল নিয়ে নারায়ণপুর থানায় হাজির হন বিধায়ক। থানার সামনে দাঁড়িয়ে এক অফিসারকে প্রথমেই শাসাতে শুরু করেন। সেই সময় থানার আইসি ছিলেন না। সল্টলেকে স্টেডিয়ামে খেলার ডিউটিতে ছিলেন। তিনি আইসি ফোন করেন। ‘দালাল মারার জায়গা হচ্ছে না নারায়ণপুর থানায়?’, ‘আপনার থানায় দাঁড়িয়ে আছি আসুন।’, ‘আমাদের ছেলেদের ডেইলি থ্রেট করছেন?’ এই ভাষাতেই চমকান। পরে আইসি আসেন। তাঁর সামনেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। খবর পেয়ে থানায় যান নিউটাউনের ডিসি জ্যোর্তিময় রায়। তারপর ঠান্ডা হন বিধায়ক।
কিন্তু, থানায় হঠাৎ রণমূর্তি ধারণ করলেন কেন? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার সিপিএমের একটি পার্টি অফিস দখলের চেষ্টার অভিযোগে তিন যুবককে পুলিশ আটক করেছিল পুলিশ। তাঁরা বিজেপিরই কর্মী। তা নিয়েই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে জানা গিয়েছে। যদিও ক্ষুব্ধ বিধায়ক থানার সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমাদের সরকারের দিকে আঙুল উঠছে। ক্রিমিনাল পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনও গাঁজা, মদ, ড্রাগসের কারবার চলছে। এলাকার মানুষ আমাকে বলছে। তাই আমি থানায় এসেছিলাম। পার্টি অফিস দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও অফিস কেউ দখল করেনি। যাঁর কাছে চাবি ছিল, তিনিই আমাদের দিয়েছেন। ডিসি নিউটাউন সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে তদন্ত হবে।