সংবাদদাতা, বনগাঁ: মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে রাজ্যে চালু হয়েছে এসআইআর। তারপর থেকে আতঙ্ক তাড়া করছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার উদ্বাস্তু ও ছিন্নমূল মানুষকে। এই পরিস্থিতির সুবিধা নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিজেপি। অভিযোগ, উদ্বিগ্ন মানুষজনকে এই সুযোগে সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবদেন করাতে তৎপর হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। সীমান্তবর্তী শহর বনগাঁ বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের অন্যতম আশ্রয়স্থল। স্বভাবতই এই আবহে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বনগাঁবাসীর একটা বড় অংশের মধ্যে। সিএএ-তে আবেদন হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বনগাঁয় নিজের উদ্যোগে সিএএ ক্যাম্প চালু করেছেন বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। মঙ্গলবার থেকে এই ক্যাম্প চালু করেন তিনি। এখানে এসে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারছেন বাসিন্দারা। বিধায়ক জানিয়েছেন, আগামী দিনেও এই শিবির চালু থাকবে। যদিও বিজেপির এই তৎপরতার তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল সহ বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, মানুষ যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিজেপি।
বুধবার বিধায়কের সিএএ ক্যাম্পে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আসেন বনগাঁ সুভাষপল্লির বাসিন্দা পুষ্প হালদার। তাঁর চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর ৬ মাস আগে ভারতে এলেও সেই সময় ভোটার হতে পারিনি। ১৩ বছর আগে ভোটার হই। এসআইআর হলে নাম কেটে যাবে। তাই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে এসেছি।’ একই কারণে ক্যাম্পে এসেছিলেন গোপালনগর কল্যাণপুরের বাসিন্দা বিজন দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছি। কিন্তু ২০০২ সালের আগে ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। নাগরিকত্ব পেলে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারব।’ বিধায়কের দাবি, ‘মাত্র দু’দিন হওয়ায় অনেকে এখনও ক্যাম্পের খবর জানেন না। তবে আগামীতে প্রচুর মানুষ এখানে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আসবেন। এখানে আমার বিধানসভা এলাকার সকল উদ্বাস্তু মানুষের বিনামূল্যে নাগরিকত্বের আবেদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘এসআইআর হলে যে মতুয়াদের নামই বেশি কাটা যাবে, এটা বিজেপি নেতারা অবশেষে বুঝেছেন। তাই আগেভাগে ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এসব করে আসলে বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।’