নিজস্ব প্রতিনিধি, মাঝুয়া (ডাবগ্রাম): এমএলএ ও এমপি বিজেপির। কিন্তু দীর্ঘ চার মাস ত্রাণ শিবিরে থাকলেও খোঁজ নেয়নি পদ্ম শিবির। সোমবার তিস্তাপল্লিতে সভা করে এমন অভিযোগ করেন তিস্তা নদীর ভাঙনে উদ্বাস্তু গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, জমির পাট্টা থেকে পুনর্বাসন দেওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব যা করেছেন, তা অনস্বীকার্য। তাই ছাব্বিশে এখানে ফুটবে জোড়াফুল। যদিও পদ্ম শিবিরের বিধায়ক ও সাংসদ অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের শেখানো মিথ্যা বুলি গাইছেন কয়েকজন। তাঁরা এনিয়ে ভাবছেন না। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি সরগরম।
গত বর্ষায় তিস্তার ছোবলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় লালটং ও চমকডাঙি গ্রাম দু’টি। জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে ছিল গ্রাম দু’টি। সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলির বাসিন্দারা পুনর্বাসনের জমি পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। ওই পঞ্চায়েতের মাঝুয়া গ্রামে মহানন্দা নদী সংলগ্ন খাস জমিতে তাঁদের পাট্টা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সেখানে সভা করে রাজ্য সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নদীগর্ভে চলে যাওয়া লালটং ও চমকডাঙি গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, গত বছর বর্ষার মরশুমে চার মাস ত্রাণ শিবিরে ছিলাম। শালুগাড়া হাইস্কুলে ওই ক্যাম্প হয়েছিল। একদিনের জন্যও সেখানকার ছায়া মারাননি বিজেপির এমপি ও এমএলএ। এরপরও তাঁরা আমাদের খোঁজ নেননি। দেড় বছর আগে সিকিম বিপর্যয়ের পরও তাঁরা লালটং ও চমকডাঙি গ্রামে যাননি। তবে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব সহ তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে রয়েছেন। জমির পাট্টা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা গৃহনির্মাণ, রাস্তা, বাঁধ তৈরি সহ নতুন গ্রাম তিস্তাপল্লির সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন।
সভায় তৃণমূলের বুথ সভাপতি গৌতম ছেত্রী বলেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে এখান থেকে দলকে লিড দেব। শিলিগুড়ির মেয়র তথা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, ভোটে না জিতলেও লালটং ও চমকডাঙির পাশে ছিলাম, আছি। তিস্তাপল্লির পাশেও থাকব। তবে নির্মীয়মাণ এই গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকেই পদ্ম শিবিরের নেতা-নেত্রীদের ভূমিকা স্পষ্ট। ওঁরা ভোটে জেতার পর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন।
তিস্তায় গর্ভে চাপাপড়া লালটং ও চমকডাঙি গ্রাম দু’টি ছিল ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র এবং জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে। নির্মীয়মাণ তিস্তাপল্লিও সংশ্লিষ্ট লোকসভা এবং বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। বর্তমানে দু’টি কেন্দ্রই পদ্ম শিবিরের কব্জায়। স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, বন্যা, নদী ভাঙন এবং হাতি তাণ্ডব চালালেই লালটং ও চমকডাঙি গ্রামে হাজির হয়েছিল। গতবছর ত্রাণ শিবিরে গিয়ে দুর্গতদের মধ্যে খাবার বিলি করি। তিস্তার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই দু’টি গ্রামের বাসিন্দাদের পাট্টা ও পুনর্বাসনের জন্য বিধানসভায় সরব হয়েছিলাম। কাজেই কারা কী বলছেন তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। স্থানীয় সাংসদ বিজেপির জয়ন্ত রায়ের বক্তব্যও অনেকটাই একই। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, হাতেগোনা কয়েকজন গ্রামবাসী তৃণমূলের শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন।