নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও কলকাতা, সংবাদদাতা, বনগাঁ: এসআইআর শুনানিতে ছাড় নেই কারও! রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল, কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি বা সিপিএম— শুনানিতে ডাক পাওয়ার তালিকায় আছেন সব দলের তাবড় নেতা। হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, তিন জেলা আপাতত নেতাদের শুনানি নিয়েই সরগরম।
বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় শুনানির ডাক পেয়েছিলেন। সেই মতো শুক্রবার তিনি পৌঁছে যান রায়দিঘি। সেখানে কমিশনের আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে এসে শুনানি পর্ব সেরে যান। কান্তিবাবু বলেন, ‘সবই দেওয়া আছে। কোথাও একটা ভুল হয়েছিল হয়তো। সহযোগিতা তো করতেই হবে।’ পাসপোর্ট সহ বিভিন্ন নথিপত্র তিনি সঙ্গে এনেছিলেন। এদিকে, হাওড়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্যের পর শুনানির নোটিস পেলেন দক্ষিণ হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরীও। ৪ জানুয়ারি হাওড়া জেলা লাইব্রেরিতে তাঁকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিস পেয়ে রীতিমতো বিস্মিত নন্দিতাদেবী। তিনি বলেন, ‘কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাইনি। বলছে, ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা। সমস্ত নথিপত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নেব।’ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধায়কের দাবি, ‘১৯৮২ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিচ্ছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও নাম আছে। তৃণমূল করি বলেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে আমাকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।’ নন্দিতাদেবীর বাবা অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্য হাওড়া থেকে পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। তবে শুধু তৃণমূল নয়, শুনানির তালিকায় আছেন বিজেপি বিধায়কও। এদিন শুনানিতে হাজির হন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। বনগাঁ সিনিয়র মাদ্রাসায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নথি জমা করেন তিনি। কমিশন সূত্রে খবর, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বিধায়ক কিংবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম না থাকায় ম্যাপিং হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তাদের প্রশ্ন, বিজেপির বিধায়ক কি তাহলে অনুপ্রবেশকারী? শুনানি শেষে বিধায়ক বলেন, ‘বাইরে থাকায় ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম নেই। আগেই বাবা মারা যান। সেই কারণে দিদার বাড়ির দিকের লিংক দেখিয়েছিলাম।’
বিধায়ক আরও বলেন, ‘১৯৯৯ সালে আমার পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়াও আছে একাধিক প্রামাণ্য নথি।’ বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় ৪৭ নম্বর পার্টে নাম রয়েছে বিধায়কের। এ বিষয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘এসআইআরের নাম করে সাধারণ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছে বিজেপি। নিজেদের পাতা ফাঁদে পড়েছে দলেরই অনেক বিধায়ক। আমরা বলব, ভেঙে পড়বেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ ভোটারদের জন্য লড়াই করছেন।’ নিজস্ব চিত্র