Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নোটিস পেয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক

এসআইআরের গেরোয় পড়লেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। বুধবার তাঁকে ঘাটাল বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়।

নোটিস পেয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ঘাটাল: এসআইআরের গেরোয় পড়লেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। বুধবার তাঁকে ঘাটাল বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়। পরিবারের সদস্যদের নথিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি মেলাতেই এই তলব বলে বিডিও অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে। নোটিস পেয়ে বিজেপি বিধায়ক বেশ অস্বস্তিতে পড়েন। যদিও তিনি বলেন, শুনানিতে হাজির হওয়ায় অসম্মানের কিছু নেই। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে প্রথম থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু জায়গায় অভিযোগ উঠেছে, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে, কোথাও আবার আধার, জন্ম তারিখ বা ঠিকানা সংক্রান্ত সামান্য অসঙ্গতির অজুহাতে নাগরিকদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা ‘ছাঁটাই’-এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার।

সেই প্রেক্ষাপটে একজন বিজেপি বিধায়ককেই শুনানিতে হাজিরা দিতে হওয়ায় অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির। বিধায়কের বাড়ি ঘাটাল বিধানসভার অন্তর্গত পান্না গ্রামে। ২২৬ নম্বর বুথে তাঁর নাম রয়েছে। ওই বুথের বিএলও সরমা বেরা বলেন, বিধায়কের বাবার প্রকৃত নাম লক্ষ্মীনারায়ণ কপাট। কিন্তু ভোটার লিস্টে বিধায়কের তিন ভাইয়ের বাবার নাম তিন রকম আছে। সেটার জন্য তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। বিধায়ক এদিন শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিধায়ক এদিন শুনানিতে গিয়ে বলেন, নথিগত কোনও ভুল থাকলে তা সংশোধন হওয়াই উচিত।  সেটাই করতে এসেছি। এতে খারাপ লাগার কোনও বিষয় নেই।তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতি কটাক্ষ করে বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া যে কতটা ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর, তা বিজেপির বিধায়ককেই নোটিস দিয়েই প্রশাসন বুঝিয়ে দিল। আজ যদি একজন বিধায়ককে এই হয়রানির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়।  তৃণমূলের আরও অভিযোগ, কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা রূপায়ণ করছে বলেই রাজ্যজুড়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতা তথা ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি বিকাশ করের সংযোজন, এই এসআইআরের আড়ালে বাংলায় নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করাই আসল উদ্দেশ্য। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিন শীতলবাবুর ঘটনা প্রমাণ করল, এই প্রক্রিয়া কতটা অবৈজ্ঞানিক।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ