Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আদালতের নির্দেশে তিন বছর পর হাওড়া জেলা পরিষদে বিজেপি সদস্য

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রায় তিন বছর পর হাওড়া জেলা পরিষদে অবশেষে একটি আসন পেল বিজেপি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাঁকরাইলের ২ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে জাল তপসিলি জাতির শংসাপত্র দাখিল করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

আদালতের নির্দেশে তিন বছর পর হাওড়া জেলা পরিষদে বিজেপি সদস্য
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রায় তিন বছর পর হাওড়া জেলা পরিষদে অবশেষে একটি আসন পেল বিজেপি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাঁকরাইলের ২ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে জাল তপসিলি জাতির শংসাপত্র দাখিল করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। মামলার শুনানির পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হাওড়া আদালত বিজেপি প্রার্থী  ঝুমঝুম নস্করের পক্ষে রায় দিয়ে তাঁকে জয়ীর শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত সেই নির্দেশ দিলেও তা এতদিন ফেলে রেখেছিল জেলা প্রশাসন। প্রায় পাঁচ মাস পর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের তরফে ঝুমঝুম নস্করের হাতে জয়ের সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement

২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাওড়া জেলা পরিষদের ৪২টি আসনের সবকটিই দখল করেছিল তৃণমূল। ফলে জেলা পরিষদ পুরোপুরি তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির হাতে একটি আসন চলে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়। বিশেষ করে রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর এই ঘটনাকে ঘিরে দুই শিবিরের তরজা তীব্র হয়েছে। বিজেপির দাবি, সাঁকরাইলের ওই আসনটি তপসিলি জাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। অথচ তৃণমূল প্রার্থী অপর্ণা বর সাধারণ সম্প্রদায়ের হয়েও ভুয়ো শংসাপত্রের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসতেই আদালতের দ্বারস্থ হন বিজেপি প্রার্থী ঝুমঝুম নস্কর। তাঁর অভিযোগ ছিল, শাসকদলের প্রভাব খাটিয়ে ভুয়ো নথি তৈরি করে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল অপর্ণা বরকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি লড়াই শুরু হয়।
ঝুমঝুমের দাবি, আদালতের পাশাপাশি তিনি সিবিআই ও ইডির কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি ও নথি খতিয়ে দেখার পর আদালত তাঁকে জয়ী প্রার্থী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। বিজেপি নেত্রীর কথায়, ‘এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত জয় নয়, জালিয়াতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জয়।’ যদিও আদালতের রায়ের পরও জেলা প্রশাসন এব্যাপারে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ বিজেপির। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত ডিসেম্বরে আদালত নির্দেশ দিলেও রাজনৈতিক চাপের কারণেই এতদিন শংসাপত্র আটকে রাখা হয়েছিল। তবে জেলা প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, এসআইআর এবং ভোট সংক্রান্ত একাধিক প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি কার্যকর করতে দেরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভোট প্রক্রিয়া শেষ হতেই আদালতের নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত নির্বাচনে দুর্নীতি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল আদালতের রায়ে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’ যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পুরো বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। সাঁকরাইল তৃণমূলের সভাপতি অমৃত বোস বলেন, ‘নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। আইনি লড়াই এখানেই শেষ নয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ