নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: লেকটাউনে তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতর চলছেই। রবিবার অবরোধ তুলতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের ছুরির আঘাতে জখম হয়েছিলেন থানার আইসি সহ তিনজন পুলিশ অফিসার। ওই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এবার মুখ্যমন্ত্রীর নামে অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিজেপি নেতার হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন এক মহিলা তৃণমূল কর্মী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে লেকটাউন থানার পুলিশ বিজেপির বিধাননগর-৪ মণ্ডল সভাপতি অতীশ দীপঙ্কর দত্ত ওরফে বাবুসোনাকে গ্রেপ্তার করল। সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হল।
চাপানউতোরের সূত্রপাত গত শনিবার রাতে। পরদিন রবিবার লেকটাউনের কালিন্দিতে বিজেপির কর্মসূচি ছিল। অভিযোগ, শনিবার রাতে দলের ঝান্ডা লাগানোর সময় তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন বিজেপি কর্মীরা। এর প্রতিবাদে রবিবার যশোর রোড অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে দু’জন বিজেপি কর্মী ছুরি বের করে। লেকটাউন থানার আইসি সহ তিনজন অফিসার তাঁদের ধরে ফেলেন। তিনজনেরই হাত কেটে যায়। ওই ঘটনায় দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, কেউ মারধর করেনি। উলটে, রবিবার রাতে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বাবুসোনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী সুজিত বসুর নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপমানজনক মন্তব্য করেন।
সোমবার দুপুরে তাঁর প্রতিবাদে মণ্ডল সভাপতির বাড়ির সামনে জড়ো হন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলারা কর্মীরা। তাঁরা প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, সেই সময় বেরিয়ে এসে বিজেপি সভাপতি শ্লীলতাহানি করেন। অভিযোগপত্রে ওই মহিলা লিখেছেন, ধর্ষণ করারও হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য অনুপম ঘোষ বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দুই কর্মীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হল। তার মধ্যে গ্রেপ্তারের পরদিন একজনের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের সক্রিয় মণ্ডল সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হল। এভাবে আমাদের দমানো যাবে না।’