


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় দলের নাম থাকতে পারে দু’-একজন প্রাক্তন সাংসদের। কিন্তু সম্ভবত কোনো ‘সিটিং এমপি’কে আর প্রার্থী করবে না গেরুয়া শিবির। বিজেপি সূত্রে এমনই জানানো হয়েছে। দলের অন্দরের ব্যাখ্যা, বর্তমান কোনো সাংসদের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে এমনিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু তিনি যদি নির্বাচনে জয়ী হন, তাহলে তাঁকে হয় সাংসদ বা বিধায়ক—কোনো একটি পদ বেছে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী। রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে সেই উপনির্বাচনের সম্ভাবনা যেনতেন প্রকারে এড়াতে চাইছে পদ্ম শিবির।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বাংলায় অন্তত জনাপাঁচেক ‘সিটিং এমপি’কে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, এবারের নির্বাচনে সেই প্রবণতা বন্ধ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। বাংলায় বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় প্রাক্তন সাংসদ হিসাবে নাম রয়েছে দিলীপ ঘোষের। জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকায় নাম থাকতে পারে বিজেপির দু’জন প্রাক্তন মহিলা সাংসদেরও। এক্ষেত্রে দেবশ্রী চৌধুরী এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে দিল্লিতে বিজেপির সদর কার্যালয়ে দলের জাতীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলার পাশাপাশিই কেরল এবং অসমের প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সহ দলের একাধিক শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা। সূত্রের খবর, বাংলার বাকি ১৫০টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী তালিকাও বুধবার রাতেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আজ-কালের মধ্যেই তা ঘোষণা করা হবে।
এরই মধ্যে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপি ত্যাগী তৃণমূল নেতা মুকুটমণি অধিকারীর নাম নিয়ে। তাঁকে এবার প্রার্থী করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, মুকুট আবারও বিজেপি শিবিরে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তিনি তদ্বির করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মুখে একবার দলত্যাগী মুকুটমণি অধিকারীকে ফের গেরুয়া শিবিরে যোগদান করানো হলে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠবে। তাই এব্যাপারে ‘ধীরে চলো’ নীতি নিতে চাইছে দল। প্রশ্ন উঠছে, রানাঘাট দক্ষিণের মতো জট থাকা কয়েকটি বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে আরও কিছুদিন সময় নেবে কি বিজেপি?