নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপি নেতার অসুস্থ শয্যাশায়ী স্ত্রীকে খাটে বেঁধে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল হাড়োয়ার মোহনপুরে। যদিও অভিযোগ পাওয়ার পরই এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম বাপি মণ্ডল। তার বাড়ি মোহনপুর এলাকাতেই। মঙ্গলবার তাকে বসিরহাট আদালতে তোলা হলে পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
হাড়োয়ার মোহনপুর এলাকার বাসিন্দা রণজিৎ মণ্ডল। তিনি অন্যের দোকানে কাজ করেন। এলাকায় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর। প্রতিদিনের মতো সোমবার কাজে গিয়েছিলেন তিনি। ছেলে-বউমা আত্মীয় বাড়ি গিয়েছিল। সন্ধ্যায় বাড়ির মূল দরজা খোলা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বাপি বাড়িতে ঢোকে। সেখানে কেউ নেই দেখে সোজা ঘরে ঢুকে যায় সে। রণজিৎবাবুর স্ত্রী সন্ধ্যাকে শয্যাশায়ী অবস্থায় ভয় দেখিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে দেয়। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। ফলে, সব কিছু দেখেও চুপ থাকতে হয় গৃহবধূকে। কার্যত চোখের সামনেই দুষ্কৃতীকে লুট করতে দেখেন। রণজিৎ বাড়িতে ফিরে দেখেন স্ত্রী খাটের সঙ্গে বাঁধা। পাশের দু’টি ঘর লন্ডভন্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আলমারির তালা ভাঙা। স্ত্রীর কাছে সমস্ত বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। রণজিৎ বলেন, আমার স্ত্রীর অসুস্থতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাপি সর্বস্ব লুট করে নিয়েছে। বাড়িতে থাকার ৮৪ হাজার টাকা ও তিন ভরির মতো সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। আমি চাই, খোয়া যাওয়া সমস্ত সামগ্রী ও টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করুক পুলিশ। এদিকে হাড়োয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হবে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীতের শুরু হয়েই সন্ধেবেলা এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রণজিৎ দাবি করেছেন, গত বছর লোকসভা ভোটের রেজাল্ট বের হওয়ার পর একবার তাঁর বাড়িতে চুরি হয়েছিল। এর বছরের মধ্যে ফের চুরি হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। রণজিৎ বলেন, আমি বিজেপি করি এটা অনেকেরই পছন্দ নয়। তাই আমাকে হাতে মারতে না পেরে ভাতে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে।