Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি জমি দখল করে বিজেপি নেতার ইটভাটা, পুনরুদ্ধারে উদাসীন বনদপ্তর

সরকারি জমি দখল করে বিজেপি নেতার ইটভাটা, পুনরুদ্ধারে উদাসীন বনদপ্তর
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার আড়ষার সিরকাবাদে বনদপ্তরের জমি দখল করে ইটভাটা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। কয়েক একর জায়গা নিয়ে ওই ইটভাটা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ওই ভাটার মালিক স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। ওই ‘অবৈধ’ ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন পদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে বনদপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও এব্যাপারে বনদপ্তরের কর্তারা সম্পূর্ণ উদাসীন। এর পিছনে তৃণমূল নেতাদের একাংশেরও ‘মদত’ রয়েছে বলে অভিযোগ!

Advertisement

পুরুলিয়ার আড়ষার সিরকাবাদ থেকে অযোধ্যা পাহাড় যাওয়ার রাস্তার ধারেই বিজেপি নেতার ওই ইটভাটাটি রয়েছে। ওই এলাকায় বিস্তীর্ণ জঙ্গল রয়েছে। ভূমিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় প্রায় ৫৭.৮৯ একর জমি রয়েছে, যা ১৯৬৬ সালের গেজেট নোটিফিকেশনে বনভূমি হিসেবে ঘোষিত। তারমাঝে অল্প রায়তি জমি রয়েছে অবশ্য। যদিও তার শ্রেণি ‘জঙ্গল’। ১৯৮০ সালের বনসংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, বনভূমি হিসেবে ঘোষিত কোনও জমির উপরে অ-বনজ কাজকর্ম কোনওভাবেই হতে পারে না। সেই জঙ্গলের মধ্যেই এরকম একটি ইটভাটা কীভাবে গড়ে উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাসিন্দারা এনিয়ে গণস্বাক্ষর করে চিঠি জমা দিয়েছেন বনদপ্তরের অধিকাররিকদের কাছে। যদিও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, জঙ্গলের মাঝে ওই ভাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য। সঙ্কটে বন্যপ্রাণ। এনিয়ে আড়ষার বাসিন্দা তথা এসইউসি-র কৃষক সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকমণ্ডমীর সদস্য রঙ্গলাল কুমার বলেন, যেখানে গাছ থাকার কথা, সেখানে ধোঁয়া উড়বে কেন? বনদপ্তরের কর্তারা কেনই বা কোনও পদক্ষেপ করছেন না? তাঁর সংযোজন, যদি কোনও স্থানীয় আদিবাসী গরিব মহিলা জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়, তাহলে তাকে পাকড়াও করে জরিমানা করা হচ্ছে। কুড়ুল পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হচ্ছে। অথচ নেতা, মাফিয়ারা বনদপ্তরের একশ্রেণির কর্তাদের হাত করে বনভূমি লুট করছে। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ করা দরকার। এনিয়ে জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ জয়মল ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি বনদপ্তরের জমি দখল করে কেউ কোনও অ-বনজ কাজকর্ম করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, বনদপ্তরের নামে যে সমস্ত জমি নোটিফায়েড, সেইসব জমির তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই আমরা শুরু করেছি। ভূমিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই কাজটা করছি। যদি কোনও জমি দখল হয়ে গিয়ে থাকে, তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াও আমরা শুরু করেছি। 
আড়ষার বাসিন্দা তথা তৃণমূলের আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি উজ্জ্বল কুমার বলেন, শুনেছি ওই ইটভাটাটির একাংশ বনদপ্তরের জমি দখল করে রয়েছে। প্রশাসন আশা করি এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে। তবে সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ওই নেতা। তাঁর দাবি, জঙ্গল পাশে থাকলেও আমি রায়তি জমিতেই ভাট্টা করেছি। সমস্ত আইন মেনেই ওই ভাটা চালাচ্ছি। আসলে আমি বিরোধী দলের কর্মী বলে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। এটা ওদেরই চক্রান্ত। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, বিষয়টি না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। খোঁজ নিয়ে দেখব।
তবে, শুধুমাত্র ইটভাটাই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই আড়ষায় বনদপ্তরের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। জমি দখল করে গড়ে উঠছে বহু রিসর্ট। সেগুলির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করার ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ